ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান, তুরস্ক-কাতারের মধ্যস্থতায় সমঝোতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 411

ছবি সংগৃহীত

 

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র—পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পাঁচ দিনের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় দুই দেশ।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে তুরস্ক ও কাতার। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং তা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।

আরও পড়ুন  সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় পাকিস্তান কোনো আপস করবে না: সেনাপ্রধান

বিবৃতিতে বলা হয়,

“সকল পক্ষ শান্তি বজায় রাখবে এবং চুক্তি লঙ্ঘনকারী পক্ষের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

এর আগে, দোহায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় ১৮ অক্টোবর। পরে তা ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে কয়েক দফা বৈঠকের পর ৩০ অক্টোবর চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও এক বিবৃতিতে আলোচনার সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,

“উভয় পক্ষ ভবিষ্যতের বৈঠকে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।”

২০২১ সালে তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একাধিকবার সামরিক সংঘর্ষ ঘটে। সর্বশেষ সংঘর্ষ শুরু হয় ৯ অক্টোবর, যখন পাকিস্তান আফগান রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানও হামলা চালায়।

এই সংঘাতে প্রাণ হারান অন্তত ২০০ আফগান সেনা এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা। হামলায় টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ, তার ডেপুটি ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন। সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পরিবহন রুট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবানরা টিটিপিকে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তবে আফগানিস্তান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষের পর ১৫ অক্টোবর উভয় দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে সম্প্রসারিত হয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেয়।

তুরস্ক ও কাতার জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতেও পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান, তুরস্ক-কাতারের মধ্যস্থতায় সমঝোতা

আপডেট সময় ১২:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

 

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র—পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পাঁচ দিনের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় দুই দেশ।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে তুরস্ক ও কাতার। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং তা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।

আরও পড়ুন  "ইরান চায় চীন-পাকিস্তান সিল্ক রোডে যুক্ত হতে: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান"

বিবৃতিতে বলা হয়,

“সকল পক্ষ শান্তি বজায় রাখবে এবং চুক্তি লঙ্ঘনকারী পক্ষের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

এর আগে, দোহায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় ১৮ অক্টোবর। পরে তা ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে কয়েক দফা বৈঠকের পর ৩০ অক্টোবর চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও এক বিবৃতিতে আলোচনার সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,

“উভয় পক্ষ ভবিষ্যতের বৈঠকে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।”

২০২১ সালে তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একাধিকবার সামরিক সংঘর্ষ ঘটে। সর্বশেষ সংঘর্ষ শুরু হয় ৯ অক্টোবর, যখন পাকিস্তান আফগান রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানও হামলা চালায়।

এই সংঘাতে প্রাণ হারান অন্তত ২০০ আফগান সেনা এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা। হামলায় টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ, তার ডেপুটি ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন। সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পরিবহন রুট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবানরা টিটিপিকে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তবে আফগানিস্তান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষের পর ১৫ অক্টোবর উভয় দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে সম্প্রসারিত হয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেয়।

তুরস্ক ও কাতার জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতেও পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।