ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

পাটের রং-দামে খুশি কৃষক, বাড়ছে চাষের আগ্রহ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 1100

ছবি: সংগৃহীত

 

চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাটচাষ ভালো হয়েছে। কৃষকদের সময়মতো পাট কাটা ও সঠিকভাবে জাগ দেওয়ার ফলে ফলনে যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি পাটের রং ও গুণগত মানও হয়েছে প্রশংসনীয়। এতে করে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা—ফলে কৃষকদের মুখে হাসি।

চাষিরা জানান, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল-বিল, পুকুরে আগে থেকেই পানি জমে ছিল। এতে জাগ দেওয়ার জন্য আলাদা খরচ কমে এসেছে, যা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন  পাওনা টাকা চাওয়ায় কৃষক দল নেতাকে ট্রাকচাপায় হত্যার অভিযোগ

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। ফলে আবাদ বেড়েছে ২৯৮ হেক্টর জমিতে। এবার পাটের গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৪১৫ টন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, “এবার বৃষ্টিপাত ভালো হয়েছে, জমিতে পানি জমে থাকায় পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। রোদে শুকানোর পর পাটের রংও ভালো হয়েছে। আগে রং লালচে হতো, এবার তা সাদা ও উজ্জ্বল।”

আদর্শ কৃষক হাজি আবদুর রফিক বলেন, “এবার পাটের দাম কিছুটা ভালো ছিল, তাই খরচ উঠে এসেছে। তবে ফসলি জমি কমে যাওয়া, শ্রমিক মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ এখনও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। পাটপণ্য ব্যবহারে পুনরুজ্জীবন এলে চাষিরা আবার আগ্রহ পাবে।”

দুর্গাপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের চাষি রুবেল জানান, “এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১২ মণ পেয়েছি। দুর্গাপুর সিংগা হাটে ৩,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এমন দাম থাকলে আগামী বছর চাষ আরও বাড়াব।”

চৌবাড়ীয়া গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে পাটের দাম এত কম ছিল যে শ্রমিকের খরচই উঠত না। গত বছর ১,৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি, এবার পেয়েছি ৩,৮০০ টাকা মণ। এটা চাষিদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “পাট আমাদের সোনালী ফসল। আগের তুলনায় এ বছর দাম ভালো এবং চাষও বেড়েছে। চাষিরা লাভবান হওয়ায় আগামীতে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।”

জেলা পর্যায়ের পাট ব্যবসায়ী বকুল ইসলাম জানান, “তাহেরপুর বাজার থেকে আমি বিভিন্ন প্রকারের পাট ৩,০০০ থেকে ৩,৭০০ টাকা মণ দরে কিনেছি। এর মধ্যে ৩ ট্রাক পাট পাঠিয়েছি নওহাটা জুট মিলে।”

অন্য পাট ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, “রাজশাহীর বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ও গুণমান দুটোই ভালো।”

হাসান জুট ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাসান আলী জানান, রাজশাহীর ৬টি জুট মিল মিলে মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ মণ পাট ক্রয় করে। এসব পাট স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত। এবার রঙ ও মানে পাট ভালো হওয়ায় মিলগুলোও সন্তুষ্ট।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, “চলতি বছরে পাট আবাদ ও উৎপাদন উভয়ই বেড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া কারণে কৃষকরা সঠিকভাবে জাগ দিতে পারছেন, যার প্রভাব পড়েছে গুণগত মান ও দামে। আশা করি কৃষকরা এবার ভালো লাভ করবেন।”

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

পাটের রং-দামে খুশি কৃষক, বাড়ছে চাষের আগ্রহ

আপডেট সময় ০১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

 

চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাটচাষ ভালো হয়েছে। কৃষকদের সময়মতো পাট কাটা ও সঠিকভাবে জাগ দেওয়ার ফলে ফলনে যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি পাটের রং ও গুণগত মানও হয়েছে প্রশংসনীয়। এতে করে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা—ফলে কৃষকদের মুখে হাসি।

চাষিরা জানান, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল-বিল, পুকুরে আগে থেকেই পানি জমে ছিল। এতে জাগ দেওয়ার জন্য আলাদা খরচ কমে এসেছে, যা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন  লবণাক্ত জমিতে বিনা চাষে সূর্যমুখীতে সফলতা, কৃষকদের মুখে হাসি

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। ফলে আবাদ বেড়েছে ২৯৮ হেক্টর জমিতে। এবার পাটের গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৪১৫ টন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, “এবার বৃষ্টিপাত ভালো হয়েছে, জমিতে পানি জমে থাকায় পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। রোদে শুকানোর পর পাটের রংও ভালো হয়েছে। আগে রং লালচে হতো, এবার তা সাদা ও উজ্জ্বল।”

আদর্শ কৃষক হাজি আবদুর রফিক বলেন, “এবার পাটের দাম কিছুটা ভালো ছিল, তাই খরচ উঠে এসেছে। তবে ফসলি জমি কমে যাওয়া, শ্রমিক মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ এখনও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। পাটপণ্য ব্যবহারে পুনরুজ্জীবন এলে চাষিরা আবার আগ্রহ পাবে।”

দুর্গাপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের চাষি রুবেল জানান, “এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১২ মণ পেয়েছি। দুর্গাপুর সিংগা হাটে ৩,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এমন দাম থাকলে আগামী বছর চাষ আরও বাড়াব।”

চৌবাড়ীয়া গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে পাটের দাম এত কম ছিল যে শ্রমিকের খরচই উঠত না। গত বছর ১,৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি, এবার পেয়েছি ৩,৮০০ টাকা মণ। এটা চাষিদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “পাট আমাদের সোনালী ফসল। আগের তুলনায় এ বছর দাম ভালো এবং চাষও বেড়েছে। চাষিরা লাভবান হওয়ায় আগামীতে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।”

জেলা পর্যায়ের পাট ব্যবসায়ী বকুল ইসলাম জানান, “তাহেরপুর বাজার থেকে আমি বিভিন্ন প্রকারের পাট ৩,০০০ থেকে ৩,৭০০ টাকা মণ দরে কিনেছি। এর মধ্যে ৩ ট্রাক পাট পাঠিয়েছি নওহাটা জুট মিলে।”

অন্য পাট ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, “রাজশাহীর বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ও গুণমান দুটোই ভালো।”

হাসান জুট ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাসান আলী জানান, রাজশাহীর ৬টি জুট মিল মিলে মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ মণ পাট ক্রয় করে। এসব পাট স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত। এবার রঙ ও মানে পাট ভালো হওয়ায় মিলগুলোও সন্তুষ্ট।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, “চলতি বছরে পাট আবাদ ও উৎপাদন উভয়ই বেড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া কারণে কৃষকরা সঠিকভাবে জাগ দিতে পারছেন, যার প্রভাব পড়েছে গুণগত মান ও দামে। আশা করি কৃষকরা এবার ভালো লাভ করবেন।”