ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

আর্থিক খাত সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 409

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক খাত সংস্কারে নেওয়া উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর টিমের কাজকে চমৎকার বলে অভিহিত করেছেন।

সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন জোহানেস জুট। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট সফল করতে সংকল্পবদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার: ফয়েজ তৈয়্যব'

জোহানেস জুট বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি আমার ভালোবাসা অনেক গভীর। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আমি বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখনো মনে আছে।”

তিনি বলেন, “আপনারা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন, তাতে বিশ্বব্যাংক পাশে থাকবে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”

গত বছরের জুলাইয়ে গণ-আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য সেটি এক আবেগঘন সময় ছিল।”

জোহানেস জুটের আন্তরিক প্রশংসা ও সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন পরিস্থিতি ছিল যেন ভূমিকম্প–পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ। আমাদের কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না, কিন্তু উন্নয়ন সহযোগীরা পাশে দাঁড়িয়েছে। এতে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে তরুণেরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। নারীরাও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা সেই দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করছি, যেন তাঁদের ত্যাগ বৃথা না যায়।”

বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন মানেই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আমাদের সমুদ্রবন্দর রয়েছে, যা অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব দেশে জনশক্তি সংকট রয়েছে, তারা তাদের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর করলে আমরা শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করব।”

নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে জোহানেস জুট বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প এখন বহু দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।”

তিনি জানান, গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে তিন বিলিয়নেরও বেশি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং আগামীতেও সমানভাবে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) নতুন পরিচালনা ব্যবস্থায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নিট বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, যার বেশিরভাগ এসেছে ইন্ট্রা-কোম্পানি ঋণ ও শক্তিশালী ইকুইটি বিনিয়োগ থেকে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্থিক খাত সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক খাত সংস্কারে নেওয়া উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর টিমের কাজকে চমৎকার বলে অভিহিত করেছেন।

সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন জোহানেস জুট। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ অনুমোদন

জোহানেস জুট বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি আমার ভালোবাসা অনেক গভীর। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আমি বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখনো মনে আছে।”

তিনি বলেন, “আপনারা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন, তাতে বিশ্বব্যাংক পাশে থাকবে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”

গত বছরের জুলাইয়ে গণ-আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য সেটি এক আবেগঘন সময় ছিল।”

জোহানেস জুটের আন্তরিক প্রশংসা ও সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন পরিস্থিতি ছিল যেন ভূমিকম্প–পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ। আমাদের কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না, কিন্তু উন্নয়ন সহযোগীরা পাশে দাঁড়িয়েছে। এতে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে তরুণেরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। নারীরাও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা সেই দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করছি, যেন তাঁদের ত্যাগ বৃথা না যায়।”

বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন মানেই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। আমাদের সমুদ্রবন্দর রয়েছে, যা অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব দেশে জনশক্তি সংকট রয়েছে, তারা তাদের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর করলে আমরা শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করব।”

নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে জোহানেস জুট বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প এখন বহু দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।”

তিনি জানান, গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে তিন বিলিয়নেরও বেশি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং আগামীতেও সমানভাবে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) নতুন পরিচালনা ব্যবস্থায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নিট বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, যার বেশিরভাগ এসেছে ইন্ট্রা-কোম্পানি ঋণ ও শক্তিশালী ইকুইটি বিনিয়োগ থেকে।