ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিপর্যস্ত মার্কিন অর্থনীতি, ছাঁটাই-ব্যয় সংকটে ব্যবসা খাত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 387

ছবি সংগৃহীত

 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে দেশের অর্থনীতির দিকেই। জেপি মরগান চেজ ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান শুল্কহার বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮ হাজার ২৩০ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এর ফলে কর্মী ছাঁটাই বাড়বে এবং বিনিয়োগেও দেখা দিতে পারে বড় ধরনের স্থবিরতা।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: শনিবারের মধ্যে জিম্মি মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি বাতিল

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে বসার পর ট্রাম্প একের পর এক শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে। এতে শুধু বিদেশি বাণিজ্যেই অস্থিরতা দেখা দেয়নি, বরং সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় অর্থনীতিতে। মার্কিন চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, বিনিয়োগে নেমেছে ভাটা, আর কমেছে ভোক্তা ব্যয়।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে খুচরা বিক্রি প্রায় ০.৯ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে বাড়তে শুরু করেছে বেকারত্বের হারও, যা এখন ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন কোম্পানিতে গণহারে ছাঁটাইয়ের কারণে শ্রমবাজারে চাপ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান শুল্কহার অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীপ্রতি ব্যয় অনেক গুণ বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ট্রাম্প যদি প্রত্যাশার তুলনায় আরও বেশি শুল্কারোপ করেন, তাহলে মার্কিন বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

জেপি মরগান চেজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বার্ষিক ১ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের আয় রয়েছে—এমন মাঝারি আকারের মার্কিন কোম্পানিগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানির একটি বড় অংশ চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের উপর নির্ভরশীল। তাই শুল্ক নীতির কারণে বিশেষ করে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাত সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক বাড়িয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করার কৌশল বাস্তবে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো শুল্কের চাপেই বিনিয়োগ কমছে, চাকরি হারাচ্ছেন হাজারো কর্মী, বাজারে তৈরি হচ্ছে নতুন অনিশ্চয়তা। শুল্কের এ অস্থির নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহল এখন বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিপর্যস্ত মার্কিন অর্থনীতি, ছাঁটাই-ব্যয় সংকটে ব্যবসা খাত

আপডেট সময় ০৪:১৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে দেশের অর্থনীতির দিকেই। জেপি মরগান চেজ ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান শুল্কহার বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮ হাজার ২৩০ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এর ফলে কর্মী ছাঁটাই বাড়বে এবং বিনিয়োগেও দেখা দিতে পারে বড় ধরনের স্থবিরতা।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: শনিবারের মধ্যে জিম্মি মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি বাতিল

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে বসার পর ট্রাম্প একের পর এক শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে। এতে শুধু বিদেশি বাণিজ্যেই অস্থিরতা দেখা দেয়নি, বরং সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় অর্থনীতিতে। মার্কিন চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, বিনিয়োগে নেমেছে ভাটা, আর কমেছে ভোক্তা ব্যয়।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে খুচরা বিক্রি প্রায় ০.৯ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে বাড়তে শুরু করেছে বেকারত্বের হারও, যা এখন ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন কোম্পানিতে গণহারে ছাঁটাইয়ের কারণে শ্রমবাজারে চাপ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান শুল্কহার অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীপ্রতি ব্যয় অনেক গুণ বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ট্রাম্প যদি প্রত্যাশার তুলনায় আরও বেশি শুল্কারোপ করেন, তাহলে মার্কিন বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

জেপি মরগান চেজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বার্ষিক ১ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের আয় রয়েছে—এমন মাঝারি আকারের মার্কিন কোম্পানিগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানির একটি বড় অংশ চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের উপর নির্ভরশীল। তাই শুল্ক নীতির কারণে বিশেষ করে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাত সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক বাড়িয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করার কৌশল বাস্তবে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো শুল্কের চাপেই বিনিয়োগ কমছে, চাকরি হারাচ্ছেন হাজারো কর্মী, বাজারে তৈরি হচ্ছে নতুন অনিশ্চয়তা। শুল্কের এ অস্থির নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহল এখন বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছে।