ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ লবণসহিষ্ণু গমের জাত ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / 995

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগ দেশের প্রথম উচ্চ লবণসহিষ্ণু গমের জাত ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন করেছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সমাধান না হলে ‘ঢাকা ব্লকেড’ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

অধ্যাপক ময়নুল হক ও অধ্যাপক মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে গবেষণা চালিয়ে উদ্ভাবিত এই নতুন জাতের গম লবণাক্ত মাটি সহনশীল, উচ্চফলনশীল এবং অধিক প্রোটিনসমৃদ্ধ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯১টিতে, যা দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

অধ্যাপক মসিউল ইসলাম জানান, ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ফল। উপকূলীয় ও লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কৃষকের জন্য লাভজনক সমাধান দিতে এই জাতের গম উদ্ভাবনে কাজ শুরু করা হয়েছিল। এটি লবণাক্ত পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম এবং তুলনামূলকভাবে বেশি ফলন দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের মাঠে দীর্ঘ পরীক্ষার পর এই গমের জাতটি লবণসহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়। পরে জাতীয় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ছয়টি স্থানে মাঠপর্যায়ে ফলন মূল্যায়ন করা হয়, যা সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড গত ১৭ জুন ‘জিএইউ গম ১’-এর ছাড়পত্র দেয়।

নতুন এই গমের প্রোটিন শরীরের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া এর পর্যাপ্ত গ্লটেনিন থাকার কারণে এটি সহজে হজম হয় এবং লো-ফ্যাট খাদ্য হিসেবে দেহে দ্রুত শোষিত হয়। ল্যাবরেটরিতে ডিইউএসের ১৩টি বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এটি সাধারণ গমের তুলনায় ভিন্ন গুণসম্পন্ন।

আমন মৌসুমের ধান কাটার পর এই গম চাষ করা হলে মাত্র ৯৫ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। এর গাছের আকার বড়, কাণ্ড শক্ত এবং শীষে বেশি গুটি থাকে বলে বেশি খড় পাওয়া যায়, যা গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহেও সহায়ক হবে। স্বাভাবিক মাটিতে এই গমের সম্ভাব্য ফলন প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৫ টন এবং লবণাক্ত মাটিতে ৩ দশমিক ৭৫ টন পর্যন্ত হতে পারে।

মানবদেহে সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টি শোষণেও সহায়ক এই গম জলবায়ু সহনশীল এবং রোগ-পোকা প্রতিরোধে শক্তিশালী হওয়ায় দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সহজেই চাষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ লবণসহিষ্ণু গমের জাত ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন

আপডেট সময় ০৬:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

 

 

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগ দেশের প্রথম উচ্চ লবণসহিষ্ণু গমের জাত ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন করেছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে অটোরিকশা চালক হত্যায় দুই আসামি গ্রেফতার

অধ্যাপক ময়নুল হক ও অধ্যাপক মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে গবেষণা চালিয়ে উদ্ভাবিত এই নতুন জাতের গম লবণাক্ত মাটি সহনশীল, উচ্চফলনশীল এবং অধিক প্রোটিনসমৃদ্ধ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯১টিতে, যা দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

অধ্যাপক মসিউল ইসলাম জানান, ‘জিএইউ গম ১’ উদ্ভাবন দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ফল। উপকূলীয় ও লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কৃষকের জন্য লাভজনক সমাধান দিতে এই জাতের গম উদ্ভাবনে কাজ শুরু করা হয়েছিল। এটি লবণাক্ত পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম এবং তুলনামূলকভাবে বেশি ফলন দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের মাঠে দীর্ঘ পরীক্ষার পর এই গমের জাতটি লবণসহিষ্ণু ও উচ্চফলনশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়। পরে জাতীয় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ছয়টি স্থানে মাঠপর্যায়ে ফলন মূল্যায়ন করা হয়, যা সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড গত ১৭ জুন ‘জিএইউ গম ১’-এর ছাড়পত্র দেয়।

নতুন এই গমের প্রোটিন শরীরের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া এর পর্যাপ্ত গ্লটেনিন থাকার কারণে এটি সহজে হজম হয় এবং লো-ফ্যাট খাদ্য হিসেবে দেহে দ্রুত শোষিত হয়। ল্যাবরেটরিতে ডিইউএসের ১৩টি বৈশিষ্ট্য যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এটি সাধারণ গমের তুলনায় ভিন্ন গুণসম্পন্ন।

আমন মৌসুমের ধান কাটার পর এই গম চাষ করা হলে মাত্র ৯৫ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। এর গাছের আকার বড়, কাণ্ড শক্ত এবং শীষে বেশি গুটি থাকে বলে বেশি খড় পাওয়া যায়, যা গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহেও সহায়ক হবে। স্বাভাবিক মাটিতে এই গমের সম্ভাব্য ফলন প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৫ টন এবং লবণাক্ত মাটিতে ৩ দশমিক ৭৫ টন পর্যন্ত হতে পারে।

মানবদেহে সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টি শোষণেও সহায়ক এই গম জলবায়ু সহনশীল এবং রোগ-পোকা প্রতিরোধে শক্তিশালী হওয়ায় দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সহজেই চাষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।