ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ

গাজায় আরও রক্তস্নান: একদিনেই ১৪৪ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 513

ছবি সংগৃহীত

 

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) একদিনেই এ প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

ভোররাতে গাজা সিটির নেতজারিম করিডোরে সালাহউদ্দিন সড়কে সহায়তা সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অনেকেই খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন  আজ হামাসের বন্দি বিনিময়ে তিন ইসরায়েলি মুক্তি, ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ৩৬৯

একই দিনে গাজাজুড়ে চালানো বিমান ও স্থল হামলায় আল-মাওয়াসি, জেইতুন ও মাজাজি শরণার্থী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে শরণার্থী তাঁবুতে চালানো হামলায় পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মাত্র তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

গাজায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানি বাড়ছেই। হামাসের দাবি, এই বিতরণ প্রক্রিয়া আসলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনার অংশ। তাদের অভিযোগ, ‘রেড জোন’ দেখিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিনকার এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করা’র নামে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেসামরিক মানুষের ওপর একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় আরও রক্তস্নান: একদিনেই ১৪৪ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

আপডেট সময় ১০:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

 

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) একদিনেই এ প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

ভোররাতে গাজা সিটির নেতজারিম করিডোরে সালাহউদ্দিন সড়কে সহায়তা সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অনেকেই খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন  আজ হামাসের বন্দি বিনিময়ে তিন ইসরায়েলি মুক্তি, ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ৩৬৯

একই দিনে গাজাজুড়ে চালানো বিমান ও স্থল হামলায় আল-মাওয়াসি, জেইতুন ও মাজাজি শরণার্থী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে শরণার্থী তাঁবুতে চালানো হামলায় পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মাত্র তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

গাজায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানি বাড়ছেই। হামাসের দাবি, এই বিতরণ প্রক্রিয়া আসলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনার অংশ। তাদের অভিযোগ, ‘রেড জোন’ দেখিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিনকার এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করা’র নামে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেসামরিক মানুষের ওপর একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।