ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

পর্যটনে বিদেশি পর্যটক হারাচ্ছে বাংলাদেশ, ই-ভিসা চালুর তাগিদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 470

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে এখনো চালু হয়নি কোনো ইলেকট্রনিক বা ই-ভিসা ব্যবস্থা। ফলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে জটিলতার আশঙ্কায় অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স ও পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি পর্যটক বাড়াতে হলে দ্রুত ই-ভিসা চালু করা জরুরি। প্রাথমিকভাবে কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য এ সুবিধা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তুরস্কের উদাহরণ টেনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা সেনজেন ভিসা থাকলেই সে দেশের পর্যটকরা সহজেই অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন করে কম সময়েই ভিসা পাচ্ছেন। ফলস্বরূপ, দেশটি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশীদের জন্য চালু হলো থাইল্যান্ডের ই-ভিসা

অন্যদিকে, বাংলাদেশের আছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। তবুও ই-ভিসা না থাকায় অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন। বর্তমানে চালু থাকা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সিস্টেম নির্ভরযোগ্য নয়, যা পর্যটকদের মনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

আটাব সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, “ভিসা নিতে দূতাবাসে যাওয়া সময়সাপেক্ষ এবং অনেকের কাছে ঝামেলাপূর্ণ মনে হয়। এতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।”

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানান, “শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই যদি ই-ভিসা চালু করা যায়, তাহলে বিদেশি পর্যটকদের আগমন অনেক গুণে বাড়বে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোয়েব-উর রহমান বলেন, “যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে বেশি পর্যটক আসেন, প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য ই-ভিসা চালু করা যেতে পারে।”

পর্যটন বিশেষজ্ঞ তৌফিক রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে একটি ট্যুরিস্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে ই-ভিসার বিকল্প নেই।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, “ই-ভিসা চালু হলে এটি দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের বলেন, “ই-ভিসা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পাশাপাশি গেটওয়ে ভিসা ও থার্ড কান্ট্রি ভিসা নিয়েও ভাবনা চলছে।”

উল্লেখ্য, দেশে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন প্রকল্প, গবেষণা বা কূটনৈতিক কাজে আসেন। অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, যা বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার।

নিউজটি শেয়ার করুন

পর্যটনে বিদেশি পর্যটক হারাচ্ছে বাংলাদেশ, ই-ভিসা চালুর তাগিদ

আপডেট সময় ০২:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

 

বাংলাদেশে এখনো চালু হয়নি কোনো ইলেকট্রনিক বা ই-ভিসা ব্যবস্থা। ফলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে জটিলতার আশঙ্কায় অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স ও পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি পর্যটক বাড়াতে হলে দ্রুত ই-ভিসা চালু করা জরুরি। প্রাথমিকভাবে কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য এ সুবিধা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তুরস্কের উদাহরণ টেনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা সেনজেন ভিসা থাকলেই সে দেশের পর্যটকরা সহজেই অনলাইনে ই-ভিসার আবেদন করে কম সময়েই ভিসা পাচ্ছেন। ফলস্বরূপ, দেশটি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  ক্ষেপণাস্ত্র সাইট থেকে পর্যটন স্বর্গে পরিণত হল উত্তর কোরিয়া

অন্যদিকে, বাংলাদেশের আছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। তবুও ই-ভিসা না থাকায় অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন। বর্তমানে চালু থাকা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সিস্টেম নির্ভরযোগ্য নয়, যা পর্যটকদের মনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

আটাব সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, “ভিসা নিতে দূতাবাসে যাওয়া সময়সাপেক্ষ এবং অনেকের কাছে ঝামেলাপূর্ণ মনে হয়। এতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।”

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানান, “শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই যদি ই-ভিসা চালু করা যায়, তাহলে বিদেশি পর্যটকদের আগমন অনেক গুণে বাড়বে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোয়েব-উর রহমান বলেন, “যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে বেশি পর্যটক আসেন, প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য ই-ভিসা চালু করা যেতে পারে।”

পর্যটন বিশেষজ্ঞ তৌফিক রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে একটি ট্যুরিস্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে ই-ভিসার বিকল্প নেই।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, “ই-ভিসা চালু হলে এটি দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের বলেন, “ই-ভিসা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পাশাপাশি গেটওয়ে ভিসা ও থার্ড কান্ট্রি ভিসা নিয়েও ভাবনা চলছে।”

উল্লেখ্য, দেশে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন প্রকল্প, গবেষণা বা কূটনৈতিক কাজে আসেন। অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, যা বাংলাদেশের পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার।