ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 306

ছবি সংগৃহীত

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঠানপাড়া ও উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপাড়ার দুই কিশোর পাঠানপাড়ার ‘এরাবিয়ান হেবসা অ্যান্ড ফুচকা হাউস’-এ ফুচকা খেতে গেলে টিস্যু পেপার চাওয়া নিয়ে দোকানের এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ায়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হয়। ঘটনাটি মুহূর্তেই দুই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  দিল্লিতে দুই বিমানের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

রাত আটটার দিকে মসজিদের মাইকে লোকজনকে সংঘর্ষে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়। এরপর দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে দুই পক্ষ মহাসড়কে মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষে আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন যোগ দেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।

এসময় উত্তেজিত লোকজন উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরাবিয়ান হেবসা অ্যান্ড ফুচকা হাউসের মালিক মুজিবুর পাঠান বলেন, “আমার দোকানে অন্তত চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।” একইভাবে ‘স্বপ্নপূরী ফুচকা হাউস’-এর মালিক শামীম পাঠান জানান, “আমার দোকান থেকেও এক লাখ টাকা লুট এবং কয়েক লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে।”

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখনও পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে এলাকাবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঠানপাড়া ও উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপাড়ার দুই কিশোর পাঠানপাড়ার ‘এরাবিয়ান হেবসা অ্যান্ড ফুচকা হাউস’-এ ফুচকা খেতে গেলে টিস্যু পেপার চাওয়া নিয়ে দোকানের এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ায়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হয়। ঘটনাটি মুহূর্তেই দুই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সীমানা বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

রাত আটটার দিকে মসজিদের মাইকে লোকজনকে সংঘর্ষে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়। এরপর দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে দুই পক্ষ মহাসড়কে মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষে আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন যোগ দেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।

এসময় উত্তেজিত লোকজন উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরাবিয়ান হেবসা অ্যান্ড ফুচকা হাউসের মালিক মুজিবুর পাঠান বলেন, “আমার দোকানে অন্তত চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।” একইভাবে ‘স্বপ্নপূরী ফুচকা হাউস’-এর মালিক শামীম পাঠান জানান, “আমার দোকান থেকেও এক লাখ টাকা লুট এবং কয়েক লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে।”

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখনও পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে এলাকাবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকায় টহল জোরদার করেছে।