ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

হবিগঞ্জে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে ঈদে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • / 234

ছবি: সংগৃহীত

 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া গ্রামে ঈদের দিন তীব্র গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মাধবপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (৭ জুলাই) রাত৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেজুড়ার বারঘরিয়া ও তেরঘরিয়া নামে দুই গোষ্ঠী প্রায় ৫০ বছর ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে। এই দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের সূত্রেই ঈদের আনন্দ বর্ষিত মুহূর্তে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দু’পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন স্থানীয় আহত হন। পরে আহতদের মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নরসিংদীতে মোটরসাইকেল-ইজিবাইক সাইড নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১ আহত ২০

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রোবশির উল্লাহ (৩০), লাখাছ মিয়া (২৫), গাজী মিয়া (৩৫), ইমানউল্লাহ (৪০), রাফিউল­্লাহ (২৪), মুখলেছ মিয়া (৩৫), মহিবউল্লাহ (৭০), শের আলী (৫০), হোসাইন মিয়া (৩২), বাছির মিয়া (৩০), তাউস মিয়া (৬০), ওমর ফারুক (২৫), আব্দুর রহমান (৩৫), আকাশ মিয়া (২৪), মেহেদী হাসান (২২), মোবারক মিয়া (৫০) ও হারিছ মিয়া (৪৫)। বাকিদের নাম এখনও নির্দিষ্ট করা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, এ সংঘর্ষে আগে জোড়া খুনসহ একাধিক হত্যাকাণ্ড, মামলার লড়াই ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রক্ষেপণ বিছিন্ন হচ্ছে না।

মাধবপুর থানা ও উপজেলা প্রশাসন বিগত দুই মাসে গ্রামীণ শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দুই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নিয়ে একটি আইনি ও সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। উভয়পক্ষের সমাধান টীমে ১০ জন করে প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাতে সামান্য মনোমালিন্যও হলে তারা নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে পারে।

ঈদের দিন রাতেই তারা তীব্র যুদ্ধের মুখে পড়লে আহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। মাধবপুর থানার ওসি সাংবাদিকদের জানান, “যা কিছু পুলিশ অভিযানে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”

প্রশাসন ও স্থানীয়দের আবেদন বেজুড়া গ্রামে শান্তি ফিরে যাক, এটাই বর্তমান প্রাধান্য। এর জন্য পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতি ও সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে ঈদে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় ০২:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া গ্রামে ঈদের দিন তীব্র গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মাধবপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (৭ জুলাই) রাত৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেজুড়ার বারঘরিয়া ও তেরঘরিয়া নামে দুই গোষ্ঠী প্রায় ৫০ বছর ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে। এই দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের সূত্রেই ঈদের আনন্দ বর্ষিত মুহূর্তে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দু’পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন স্থানীয় আহত হন। পরে আহতদের মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ত্রিপোলিতে সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রোবশির উল্লাহ (৩০), লাখাছ মিয়া (২৫), গাজী মিয়া (৩৫), ইমানউল্লাহ (৪০), রাফিউল­্লাহ (২৪), মুখলেছ মিয়া (৩৫), মহিবউল্লাহ (৭০), শের আলী (৫০), হোসাইন মিয়া (৩২), বাছির মিয়া (৩০), তাউস মিয়া (৬০), ওমর ফারুক (২৫), আব্দুর রহমান (৩৫), আকাশ মিয়া (২৪), মেহেদী হাসান (২২), মোবারক মিয়া (৫০) ও হারিছ মিয়া (৪৫)। বাকিদের নাম এখনও নির্দিষ্ট করা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, এ সংঘর্ষে আগে জোড়া খুনসহ একাধিক হত্যাকাণ্ড, মামলার লড়াই ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রক্ষেপণ বিছিন্ন হচ্ছে না।

মাধবপুর থানা ও উপজেলা প্রশাসন বিগত দুই মাসে গ্রামীণ শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দুই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নিয়ে একটি আইনি ও সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। উভয়পক্ষের সমাধান টীমে ১০ জন করে প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাতে সামান্য মনোমালিন্যও হলে তারা নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে পারে।

ঈদের দিন রাতেই তারা তীব্র যুদ্ধের মুখে পড়লে আহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। মাধবপুর থানার ওসি সাংবাদিকদের জানান, “যা কিছু পুলিশ অভিযানে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”

প্রশাসন ও স্থানীয়দের আবেদন বেজুড়া গ্রামে শান্তি ফিরে যাক, এটাই বর্তমান প্রাধান্য। এর জন্য পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতি ও সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।