ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 170

ছবি সংগৃহীত

 

 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে রোববার (১ জুন) বিষয়টি প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুন  চীনের পারমাণবিক শক্তি: ৭০ বছরে অর্জিত সাফল্য ও কৌশল

এই প্রস্তাব এমন এক সময় এসেছে, যখন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ জানায়, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আরও জোরালো করেছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে, যা ৯০ শতাংশ মাত্রার কাছাকাছি অর্থাৎ অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের একেবারে কাছাকাছি। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিমাণ ইউরেনিয়াম প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “চুক্তিটি ইরানের জন্য মঙ্গলজনক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।” তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই ‘বিস্তারিত ও গ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাবটি ইরানকে পাঠিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি সম্প্রতি তেহরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরানকে হস্তান্তর করেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচি বলেন, “আমরা আমাদের নীতিমালা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার বিবেচনায় এই প্রস্তাবের জবাব দেব।”

এদিকে আইএইএ-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, আলোচনার মাঝেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির গতি কমায়নি। সংস্থাটি জানায়, গত তিন মাসে ইরান নিয়মিতভাবে এমন পরিমাণ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে যা প্রতি মাসেই একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়াম তৈরি করতে পারে এবং কয়েক মাসের মধ্যে একটি পরমাণু বোমা প্রস্তুত করতেও সক্ষম।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। এরপর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যদিও ওমানের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কিন্তু মূল কিছু ইস্যুতে এখনও মতবিরোধ কাটেনি বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার বিষয়ে।

এমন অবস্থায় হোয়াইট হাউসের এই নতুন প্রস্তাব দুই দেশের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব

আপডেট সময় ১২:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে রোববার (১ জুন) বিষয়টি প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও ৩৬ দেশ, কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন

এই প্রস্তাব এমন এক সময় এসেছে, যখন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ জানায়, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আরও জোরালো করেছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে, যা ৯০ শতাংশ মাত্রার কাছাকাছি অর্থাৎ অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের একেবারে কাছাকাছি। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিমাণ ইউরেনিয়াম প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “চুক্তিটি ইরানের জন্য মঙ্গলজনক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।” তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই ‘বিস্তারিত ও গ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাবটি ইরানকে পাঠিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি সম্প্রতি তেহরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরানকে হস্তান্তর করেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচি বলেন, “আমরা আমাদের নীতিমালা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার বিবেচনায় এই প্রস্তাবের জবাব দেব।”

এদিকে আইএইএ-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, আলোচনার মাঝেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির গতি কমায়নি। সংস্থাটি জানায়, গত তিন মাসে ইরান নিয়মিতভাবে এমন পরিমাণ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে যা প্রতি মাসেই একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়াম তৈরি করতে পারে এবং কয়েক মাসের মধ্যে একটি পরমাণু বোমা প্রস্তুত করতেও সক্ষম।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। এরপর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যদিও ওমানের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কিন্তু মূল কিছু ইস্যুতে এখনও মতবিরোধ কাটেনি বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার বিষয়ে।

এমন অবস্থায় হোয়াইট হাউসের এই নতুন প্রস্তাব দুই দেশের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।