ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়া জঙ্গি হামলায় একাধিক সেনা নিহত, নিখোঁজ বহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 202

ছবি সংগৃহীত

 

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো প্রদেশে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার ভোরে ১৫৩তম টাস্ক ফোর্স ব্যাটালিয়নের ঘাঁটিতে চালানো এ হামলায় সেনাবাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই নিশ্চিত করেছে দুজন নিরাপত্তা সূত্র।

বছরের শুরু থেকেই বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডাব্লিউএপি) জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়তে দেখা গেছে। এদের মধ্যে আইএসডাব্লিউএপি গোষ্ঠীটি বোকো হারাম থেকে আলাদা হয়ে আরও আধুনিক অস্ত্র এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তারা সশস্ত্র ড্রোন, রোডসাইড বোমা এবং মাইন প্রতিরোধী যানবাহনের বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুন  নাইজেরিয়া থেকে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় ক্যামেরুনে ৫ সেনা নিহত

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক সেনা সদস্য জানান, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে জঙ্গিরা মোটরসাইকেল ও সাঁজোয়া বন্দুকবাহী যান নিয়ে মার্তে জেলার সেনাঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের মুখে সেনারা পিছু হটে নিকটবর্তী দিকওয়া জেলার ২৪তম টাস্ক ফোর্স ব্রিগেডে আশ্রয় নেয়। পরে তারা সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সেনা সদস্য আরও জানান, “অনেক সেনা নিহত হয়েছেন এবং অনেকে জঙ্গিদের হাতে জীবিত অবস্থায় ধরা পড়েছেন।” নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওনিয়েচি অ্যাপোলোনিয়া আনেলে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী বেসামরিক সংগঠন সিভিলিয়ান জয়েন্ট টাস্ক ফোর্সের (সিজেটিএফ) এক সদস্য জানান, জঙ্গিরা হামলার সময় সেনাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে এবং মাইন প্রতিরোধী সাঁজোয়া যানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সিজেটিএফ সদস্য বলেন, “নিখোঁজ সেনাদের খুঁজে বের করার জন্য সেনাবাহিনী এখনো অভিযান চালাচ্ছে। এখনো নির্ধারণ করা যায়নি ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন।” নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বোকো হারাম ও আইএসডাব্লিউএপি গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘর্ষ কমে আসা এবং তাদের আধুনিক নজরদারি ও হামলার প্রযুক্তি অর্জনের ফলে এমন হামলার সংখ্যা বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

নাইজেরিয়া জঙ্গি হামলায় একাধিক সেনা নিহত, নিখোঁজ বহু

আপডেট সময় ০৫:০০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

 

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো প্রদেশে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার ভোরে ১৫৩তম টাস্ক ফোর্স ব্যাটালিয়নের ঘাঁটিতে চালানো এ হামলায় সেনাবাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই নিশ্চিত করেছে দুজন নিরাপত্তা সূত্র।

বছরের শুরু থেকেই বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডাব্লিউএপি) জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়তে দেখা গেছে। এদের মধ্যে আইএসডাব্লিউএপি গোষ্ঠীটি বোকো হারাম থেকে আলাদা হয়ে আরও আধুনিক অস্ত্র এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তারা সশস্ত্র ড্রোন, রোডসাইড বোমা এবং মাইন প্রতিরোধী যানবাহনের বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুন  নাইজেরিয়ার ইমো রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩০ যাত্রী

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক সেনা সদস্য জানান, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে জঙ্গিরা মোটরসাইকেল ও সাঁজোয়া বন্দুকবাহী যান নিয়ে মার্তে জেলার সেনাঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের মুখে সেনারা পিছু হটে নিকটবর্তী দিকওয়া জেলার ২৪তম টাস্ক ফোর্স ব্রিগেডে আশ্রয় নেয়। পরে তারা সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সেনা সদস্য আরও জানান, “অনেক সেনা নিহত হয়েছেন এবং অনেকে জঙ্গিদের হাতে জীবিত অবস্থায় ধরা পড়েছেন।” নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওনিয়েচি অ্যাপোলোনিয়া আনেলে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী বেসামরিক সংগঠন সিভিলিয়ান জয়েন্ট টাস্ক ফোর্সের (সিজেটিএফ) এক সদস্য জানান, জঙ্গিরা হামলার সময় সেনাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে এবং মাইন প্রতিরোধী সাঁজোয়া যানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সিজেটিএফ সদস্য বলেন, “নিখোঁজ সেনাদের খুঁজে বের করার জন্য সেনাবাহিনী এখনো অভিযান চালাচ্ছে। এখনো নির্ধারণ করা যায়নি ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন।” নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বোকো হারাম ও আইএসডাব্লিউএপি গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘর্ষ কমে আসা এবং তাদের আধুনিক নজরদারি ও হামলার প্রযুক্তি অর্জনের ফলে এমন হামলার সংখ্যা বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স