ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে বিষমুক্ত সবজি চাষে নতুন দিগন্ত, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / 276

ছবি: সংগৃহীত

 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে এক দৃষ্টান্তমূলক বিষমুক্ত সবজি প্রদর্শনী প্লট। রাসায়নিক ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের সবজি, যা কৃষকদের মনে জাগিয়েছে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কৃষির আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

এই প্লটটি তৈরি করেছেন স্থানীয় কৃষক মাসুদ আহমেদ। তার প্রায় ১ একর জমিতে এখন চাষ হচ্ছে করলা, শসা, বরবটি, মুলাসহ বিভিন্ন জাতের সবজি। চাষাবাদে ব্যবহার করা হয়েছে মালচিং পদ্ধতি, পোকামাকড় দমনে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। ক্ষেতের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হাত ধোয়া ও মাস্ক পরা।

আরও পড়ুন  লালমনিরহাটে স্কুলের ক্লাসরুম থেকে দপ্তরির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মাসুদ বলেন, ‘শুরুতে বিশ্বাসই হয়নি বিষ ছাড়া সবজি চাষ করা সম্ভব। কিন্তু এখন নিজের চোখেই দেখছি ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

তার এই উদ্যোগ আশপাশের কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ বাড়িয়েছে। কৃষক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কাজ করতে এসে অনেক কিছু শিখেছি। এখন আর আগের মতো ক্ষেতে বিষ দিই না। পরিবেশবান্ধবভাবে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আমার ছেলেকেও এই চাষ শিখতে বলেছি।’

বিষমুক্ত কৃষির এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে গ্যাপ বাংলাদেশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় রংপুর বিভাগের ৩৫টি উপজেলায় ৪৫ জন কৃষক এই পদ্ধতিতে চাষ করছেন। কৃষকদের দেওয়া হয়েছে উন্নতমানের বীজ, জৈব সার, মালচিং সামগ্রী ও ফেরোমন ফাঁদ। পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।

উত্তম কৃষিচর্চা কর্মসূচির সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা অশোক কুমার রায় জানান, ‘করলা ও শসাসহ মোট ১০ ধরনের সবজি এবং ৫ জাতের ফল নিয়ে প্রদর্শনী চলছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সারাদেশে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লালমনিরহাটের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘উত্তম কৃষিচর্চায় উৎপাদিত সবজি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ। এই চাষপদ্ধতি আমরা প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে চাই।’

জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কৃষক, প্রশাসন ও সচেতন সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।’

এই প্রদর্শনী প্রমাণ করেছে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি করা যেমন সম্ভব, তেমনি লাভজনকও।

নিউজটি শেয়ার করুন

লালমনিরহাটে বিষমুক্ত সবজি চাষে নতুন দিগন্ত, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে এক দৃষ্টান্তমূলক বিষমুক্ত সবজি প্রদর্শনী প্লট। রাসায়নিক ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের সবজি, যা কৃষকদের মনে জাগিয়েছে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কৃষির আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

এই প্লটটি তৈরি করেছেন স্থানীয় কৃষক মাসুদ আহমেদ। তার প্রায় ১ একর জমিতে এখন চাষ হচ্ছে করলা, শসা, বরবটি, মুলাসহ বিভিন্ন জাতের সবজি। চাষাবাদে ব্যবহার করা হয়েছে মালচিং পদ্ধতি, পোকামাকড় দমনে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। ক্ষেতের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হাত ধোয়া ও মাস্ক পরা।

আরও পড়ুন  লালমনিরহাটে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষ, আহত ৮

মাসুদ বলেন, ‘শুরুতে বিশ্বাসই হয়নি বিষ ছাড়া সবজি চাষ করা সম্ভব। কিন্তু এখন নিজের চোখেই দেখছি ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

তার এই উদ্যোগ আশপাশের কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ বাড়িয়েছে। কৃষক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কাজ করতে এসে অনেক কিছু শিখেছি। এখন আর আগের মতো ক্ষেতে বিষ দিই না। পরিবেশবান্ধবভাবে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আমার ছেলেকেও এই চাষ শিখতে বলেছি।’

বিষমুক্ত কৃষির এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে গ্যাপ বাংলাদেশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় রংপুর বিভাগের ৩৫টি উপজেলায় ৪৫ জন কৃষক এই পদ্ধতিতে চাষ করছেন। কৃষকদের দেওয়া হয়েছে উন্নতমানের বীজ, জৈব সার, মালচিং সামগ্রী ও ফেরোমন ফাঁদ। পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।

উত্তম কৃষিচর্চা কর্মসূচির সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা অশোক কুমার রায় জানান, ‘করলা ও শসাসহ মোট ১০ ধরনের সবজি এবং ৫ জাতের ফল নিয়ে প্রদর্শনী চলছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সারাদেশে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লালমনিরহাটের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘উত্তম কৃষিচর্চায় উৎপাদিত সবজি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ। এই চাষপদ্ধতি আমরা প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে চাই।’

জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কৃষক, প্রশাসন ও সচেতন সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।’

এই প্রদর্শনী প্রমাণ করেছে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি করা যেমন সম্ভব, তেমনি লাভজনকও।