০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান হৃদয় ম্যাজিকে রংপুরের জয়, এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি জয় দিয়ে শুরু বাংলার বাঘিনিদের বাছাইপর্বের লড়াই ‘যথেষ্ট সংস্কার হলেও পুলিশ সংস্কার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি’: আসিফ নজরুল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ স্থায়ী আসন পেতে দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তুতি না থাকায় ইরান হামলা থেকে ট্রাম্পকে থামালো ইসরায়েল। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিলো জার্মানি সাভারে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে মা ও শিশুর পোড়া মরদেহ উদ্ধার ​নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওবায়দুল কাদের ও সাদ্দামসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি

পাটের রং-দামে খুশি কৃষক, বাড়ছে চাষের আগ্রহ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 209

ছবি: সংগৃহীত

 

চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাটচাষ ভালো হয়েছে। কৃষকদের সময়মতো পাট কাটা ও সঠিকভাবে জাগ দেওয়ার ফলে ফলনে যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি পাটের রং ও গুণগত মানও হয়েছে প্রশংসনীয়। এতে করে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা—ফলে কৃষকদের মুখে হাসি।

চাষিরা জানান, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল-বিল, পুকুরে আগে থেকেই পানি জমে ছিল। এতে জাগ দেওয়ার জন্য আলাদা খরচ কমে এসেছে, যা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে এসেছে।

[bsa_pro_ad_space id=2]

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। ফলে আবাদ বেড়েছে ২৯৮ হেক্টর জমিতে। এবার পাটের গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৪১৫ টন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, “এবার বৃষ্টিপাত ভালো হয়েছে, জমিতে পানি জমে থাকায় পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। রোদে শুকানোর পর পাটের রংও ভালো হয়েছে। আগে রং লালচে হতো, এবার তা সাদা ও উজ্জ্বল।”

আদর্শ কৃষক হাজি আবদুর রফিক বলেন, “এবার পাটের দাম কিছুটা ভালো ছিল, তাই খরচ উঠে এসেছে। তবে ফসলি জমি কমে যাওয়া, শ্রমিক মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ এখনও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। পাটপণ্য ব্যবহারে পুনরুজ্জীবন এলে চাষিরা আবার আগ্রহ পাবে।”

দুর্গাপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের চাষি রুবেল জানান, “এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১২ মণ পেয়েছি। দুর্গাপুর সিংগা হাটে ৩,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এমন দাম থাকলে আগামী বছর চাষ আরও বাড়াব।”

চৌবাড়ীয়া গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে পাটের দাম এত কম ছিল যে শ্রমিকের খরচই উঠত না। গত বছর ১,৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি, এবার পেয়েছি ৩,৮০০ টাকা মণ। এটা চাষিদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “পাট আমাদের সোনালী ফসল। আগের তুলনায় এ বছর দাম ভালো এবং চাষও বেড়েছে। চাষিরা লাভবান হওয়ায় আগামীতে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।”

জেলা পর্যায়ের পাট ব্যবসায়ী বকুল ইসলাম জানান, “তাহেরপুর বাজার থেকে আমি বিভিন্ন প্রকারের পাট ৩,০০০ থেকে ৩,৭০০ টাকা মণ দরে কিনেছি। এর মধ্যে ৩ ট্রাক পাট পাঠিয়েছি নওহাটা জুট মিলে।”

অন্য পাট ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, “রাজশাহীর বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ও গুণমান দুটোই ভালো।”

হাসান জুট ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাসান আলী জানান, রাজশাহীর ৬টি জুট মিল মিলে মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ মণ পাট ক্রয় করে। এসব পাট স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত। এবার রঙ ও মানে পাট ভালো হওয়ায় মিলগুলোও সন্তুষ্ট।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, “চলতি বছরে পাট আবাদ ও উৎপাদন উভয়ই বেড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া কারণে কৃষকরা সঠিকভাবে জাগ দিতে পারছেন, যার প্রভাব পড়েছে গুণগত মান ও দামে। আশা করি কৃষকরা এবার ভালো লাভ করবেন।”

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

পাটের রং-দামে খুশি কৃষক, বাড়ছে চাষের আগ্রহ

আপডেট সময় ০১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

 

চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাটচাষ ভালো হয়েছে। কৃষকদের সময়মতো পাট কাটা ও সঠিকভাবে জাগ দেওয়ার ফলে ফলনে যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি পাটের রং ও গুণগত মানও হয়েছে প্রশংসনীয়। এতে করে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা—ফলে কৃষকদের মুখে হাসি।

চাষিরা জানান, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল-বিল, পুকুরে আগে থেকেই পানি জমে ছিল। এতে জাগ দেওয়ার জন্য আলাদা খরচ কমে এসেছে, যা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে এসেছে।

[bsa_pro_ad_space id=2]

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। ফলে আবাদ বেড়েছে ২৯৮ হেক্টর জমিতে। এবার পাটের গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৪১৫ টন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, “এবার বৃষ্টিপাত ভালো হয়েছে, জমিতে পানি জমে থাকায় পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। রোদে শুকানোর পর পাটের রংও ভালো হয়েছে। আগে রং লালচে হতো, এবার তা সাদা ও উজ্জ্বল।”

আদর্শ কৃষক হাজি আবদুর রফিক বলেন, “এবার পাটের দাম কিছুটা ভালো ছিল, তাই খরচ উঠে এসেছে। তবে ফসলি জমি কমে যাওয়া, শ্রমিক মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ এখনও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। পাটপণ্য ব্যবহারে পুনরুজ্জীবন এলে চাষিরা আবার আগ্রহ পাবে।”

দুর্গাপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের চাষি রুবেল জানান, “এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১২ মণ পেয়েছি। দুর্গাপুর সিংগা হাটে ৩,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এমন দাম থাকলে আগামী বছর চাষ আরও বাড়াব।”

চৌবাড়ীয়া গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে পাটের দাম এত কম ছিল যে শ্রমিকের খরচই উঠত না। গত বছর ১,৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি, এবার পেয়েছি ৩,৮০০ টাকা মণ। এটা চাষিদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “পাট আমাদের সোনালী ফসল। আগের তুলনায় এ বছর দাম ভালো এবং চাষও বেড়েছে। চাষিরা লাভবান হওয়ায় আগামীতে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।”

জেলা পর্যায়ের পাট ব্যবসায়ী বকুল ইসলাম জানান, “তাহেরপুর বাজার থেকে আমি বিভিন্ন প্রকারের পাট ৩,০০০ থেকে ৩,৭০০ টাকা মণ দরে কিনেছি। এর মধ্যে ৩ ট্রাক পাট পাঠিয়েছি নওহাটা জুট মিলে।”

অন্য পাট ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, “রাজশাহীর বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ও গুণমান দুটোই ভালো।”

হাসান জুট ইন্ডাস্ট্রির মালিক হাসান আলী জানান, রাজশাহীর ৬টি জুট মিল মিলে মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ মণ পাট ক্রয় করে। এসব পাট স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত। এবার রঙ ও মানে পাট ভালো হওয়ায় মিলগুলোও সন্তুষ্ট।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, “চলতি বছরে পাট আবাদ ও উৎপাদন উভয়ই বেড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া কারণে কৃষকরা সঠিকভাবে জাগ দিতে পারছেন, যার প্রভাব পড়েছে গুণগত মান ও দামে। আশা করি কৃষকরা এবার ভালো লাভ করবেন।”