ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

আবরার ফাহাদ হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ – ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 441

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্ট ১৩১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে।

গত ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই রায় দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, আবরার ফাহাদকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, রাজসাক্ষী মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিনই আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

ওই রায়ে বিচারক বলেন, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে এবং তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এটি ছিল এক জঘন্য হত্যাকাণ্ড।”

আদালতের রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হিসেবে পাঠানো হয়, যা গত ১৬ মার্চ চূড়ান্তভাবে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

আবরার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয় তরুণ সমাজ। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত আবারও প্রমাণ করলো যে, ন্যায়বিচার অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও সময় লাগে।

হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় এখন দেশের বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আবরার ফাহাদ হত্যা: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ – ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০১:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্ট ১৩১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে।

গত ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই রায় দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, আবরার ফাহাদকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  ছয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিনই আবরারের বাবা বরকতউল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

ওই রায়ে বিচারক বলেন, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে এবং তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এটি ছিল এক জঘন্য হত্যাকাণ্ড।”

আদালতের রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হিসেবে পাঠানো হয়, যা গত ১৬ মার্চ চূড়ান্তভাবে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

আবরার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয় তরুণ সমাজ। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত আবারও প্রমাণ করলো যে, ন্যায়বিচার অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও সময় লাগে।

হাইকোর্টের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় এখন দেশের বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।