০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন

কাশ্মীর সীমান্তে টানা চার রাত গুলি, সীমান্তবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 111

ছবি সংগৃহীত

 

 

কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে টানা চার রাত ধরে গুলির লড়াই চলছে। সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। তবে এতে শুধু ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। ভারতীয় সেনার দাবি, পাকিস্তান বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে, যার জবাব দিয়েছে ভারত।

বিজ্ঞাপন

পুঞ্চ ও কুপওয়ারায় সংঘর্ষ

রবিবার ও সোমবার মধ্যরাতেও পুঞ্চ ও কুপওয়ারায় গোলাগুলি হয়েছে। এবার প্রথমবার পুঞ্চে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, পুঞ্চে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের সেনা প্রথমে গুলি চালায়। কুপওয়ারাতেও একইভাবে গুলি চলে। তবে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

উরি সীমান্তে উত্তেজনা

ডয়চে ভেলে বাংলার প্রতিনিধি স্যমন্তক ঘোষ উরিতে গিয়ে জানান, শ্রীনগর থেকে ১০৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উরির তিনদিকে পাকিস্তানের সীমান্ত। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষ থাকলেও এখন সেখানে বেসামরিক লোকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সেখানকার আমন ব্রিজ, যা দিয়ে ভারত-পাকিস্তান চলাচল হতো, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উরির নদীর ওপর কাঁটাতারের বেড়া তুলে নেওয়া হয়েছে। সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সেনা সূত্রে জানা গেছে, দিনে গোলাগুলি না হলেও, রাত বারোটার পর থেকে গুলি চলে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর নেই।

আশঙ্কায় সীমান্তবাসী

সীমান্তঘেঁষা গ্রামের মানুষ বলছেন, ২০১৬ সালে ভয়াবহ গোলাগুলির সময় অনেককে উরি শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, আবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ ইশফাক জানান, “অনেকদিন ধরে বাংকার তৈরির দাবি জানালেও এখনও যথেষ্ট বাংকার হয়নি। রাতের বেলা গুলি শুরু হলে বাংকারে যাওয়া সম্ভব হয় না।”

উরি শহরের বাসিন্দারাও বাংকার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কামানের আক্রমণ হলে উরি শহরও নিরাপদ থাকবে না।

উরির বাসিন্দা ওয়াসিম চৌধুরী বলেন, “এই গোলাগুলি বন্ধ হোক। আলোচনা করে একটা সমাধানে পৌঁছানো দরকার। সীমান্তবাসীরা এভাবে সবসময় আতঙ্কে থাকেন।”

উরির পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কাশ্মীর সীমান্তে টানা চার রাত গুলি, সীমান্তবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক

আপডেট সময় ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

 

 

কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে টানা চার রাত ধরে গুলির লড়াই চলছে। সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। তবে এতে শুধু ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। ভারতীয় সেনার দাবি, পাকিস্তান বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে, যার জবাব দিয়েছে ভারত।

বিজ্ঞাপন

পুঞ্চ ও কুপওয়ারায় সংঘর্ষ

রবিবার ও সোমবার মধ্যরাতেও পুঞ্চ ও কুপওয়ারায় গোলাগুলি হয়েছে। এবার প্রথমবার পুঞ্চে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, পুঞ্চে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের সেনা প্রথমে গুলি চালায়। কুপওয়ারাতেও একইভাবে গুলি চলে। তবে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

উরি সীমান্তে উত্তেজনা

ডয়চে ভেলে বাংলার প্রতিনিধি স্যমন্তক ঘোষ উরিতে গিয়ে জানান, শ্রীনগর থেকে ১০৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উরির তিনদিকে পাকিস্তানের সীমান্ত। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষ থাকলেও এখন সেখানে বেসামরিক লোকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সেখানকার আমন ব্রিজ, যা দিয়ে ভারত-পাকিস্তান চলাচল হতো, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উরির নদীর ওপর কাঁটাতারের বেড়া তুলে নেওয়া হয়েছে। সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সেনা সূত্রে জানা গেছে, দিনে গোলাগুলি না হলেও, রাত বারোটার পর থেকে গুলি চলে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর নেই।

আশঙ্কায় সীমান্তবাসী

সীমান্তঘেঁষা গ্রামের মানুষ বলছেন, ২০১৬ সালে ভয়াবহ গোলাগুলির সময় অনেককে উরি শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, আবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ ইশফাক জানান, “অনেকদিন ধরে বাংকার তৈরির দাবি জানালেও এখনও যথেষ্ট বাংকার হয়নি। রাতের বেলা গুলি শুরু হলে বাংকারে যাওয়া সম্ভব হয় না।”

উরি শহরের বাসিন্দারাও বাংকার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কামানের আক্রমণ হলে উরি শহরও নিরাপদ থাকবে না।

উরির বাসিন্দা ওয়াসিম চৌধুরী বলেন, “এই গোলাগুলি বন্ধ হোক। আলোচনা করে একটা সমাধানে পৌঁছানো দরকার। সীমান্তবাসীরা এভাবে সবসময় আতঙ্কে থাকেন।”

উরির পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।