ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আইপিএলে রাজস্থান রয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 551

ছবি সংগৃহীত

আইপিএলে চলমান উত্তাপের মধ্যে রাজস্থান রয়্যালসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে সুপার ওভারে এবং লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টসের বিপক্ষে ২ রানে হারের পর রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ এনেছেন রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (আরসিএ) অ্যাড হক কমিটির আহ্বায়ক জয়দীপ বিহানি। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস।

রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এই ধরনের মন্তব্য কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে না, বরং দলটির সুনামকেও কলঙ্কিত করছে। চিঠিতে বলা হয়, “এই অভিযোগ আমাদের দল, রাজস্থান স্পোর্টস কাউন্সিল ও বিসিসিআইয়ের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত হেনেছে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই অভিযোগের পেছনের সম্ভাব্য কারণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, আরসিএ এবার রাজস্থান রয়্যালসের কাছ থেকে আগের চেয়ে কম আইপিএল টিকিট পেয়েছে বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাধারণত প্রতি ম্যাচে আরসিএ ১ হাজার ৮০০ টিকিট পেয়ে থাকে, কিন্তু এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টিকেটে।

আরও পড়ুন  আজকের খেলা: ৮ মে ২০২৫ - উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচের দিন

রাজস্থান রয়্যালসের এক ভেতরের সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, “বিসিসিআই আমাদের মৌসুমের শুরুতেই নির্দেশ দিয়েছে যে, যেহেতু আরসিএ বিলুপ্ত, তাই আমরা রাজস্থান স্টেট স্পোর্টস কাউন্সিলের (আরএসএসসি) সঙ্গে কাজ করব। কিন্তু অ্যাড–হক কমিটির কিছু সদস্য অতিরিক্ত টিকিটের দাবি করছেন, যা আমরা মানতে পারছি না। মূলত এ কারণেই এত নাটক।”

রাজস্থানের এই অভিযোগে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা নির্বাচনকালীন সময়। স্বাভাবিকভাবেই নানা রকম নাটক হবে। সবাই নিজেকে目চোখে আনতে চায়। দুর্নীতি দমন ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে ক্রিকেটকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়। ৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয় পেয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার আটে রয়েছে। লক্ষ্ণৌর বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে হাতে ৬ উইকেট রেখেও শেষ ওভারে ৯ রান তুলতে ব্যর্থ হয় দলটি। দিল্লির বিপক্ষেও একই পরিস্থিতিতে তারা সুপার ওভারে হেরে যায়। এই পরপর ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করেই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ উঠে, যা নিয়ে এখন মাঠের বাইরেও উত্তপ্ত আলোচনার ঝড়।

রাজস্থান রয়্যালসের প্রতিবাদ এবং বিসিসিআইয়ের অবস্থান স্পষ্ট এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি নাটকীয় প্রচেষ্টা মাত্র। এখন দেখার বিষয়, আরসিএ এই অভিযোগের দায়ভার থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসে এবং দলটির পারফরম্যান্স কেমন হয় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইপিএলে রাজস্থান রয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

আইপিএলে চলমান উত্তাপের মধ্যে রাজস্থান রয়্যালসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে সুপার ওভারে এবং লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টসের বিপক্ষে ২ রানে হারের পর রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ এনেছেন রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (আরসিএ) অ্যাড হক কমিটির আহ্বায়ক জয়দীপ বিহানি। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস।

রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এই ধরনের মন্তব্য কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে না, বরং দলটির সুনামকেও কলঙ্কিত করছে। চিঠিতে বলা হয়, “এই অভিযোগ আমাদের দল, রাজস্থান স্পোর্টস কাউন্সিল ও বিসিসিআইয়ের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত হেনেছে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই অভিযোগের পেছনের সম্ভাব্য কারণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, আরসিএ এবার রাজস্থান রয়্যালসের কাছ থেকে আগের চেয়ে কম আইপিএল টিকিট পেয়েছে বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাধারণত প্রতি ম্যাচে আরসিএ ১ হাজার ৮০০ টিকিট পেয়ে থাকে, কিন্তু এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টিকেটে।

আরও পড়ুন  আইপিএলের শিরোপা হাতে কোহলির কান্না: বেঙ্গালুরুর ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান

রাজস্থান রয়্যালসের এক ভেতরের সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, “বিসিসিআই আমাদের মৌসুমের শুরুতেই নির্দেশ দিয়েছে যে, যেহেতু আরসিএ বিলুপ্ত, তাই আমরা রাজস্থান স্টেট স্পোর্টস কাউন্সিলের (আরএসএসসি) সঙ্গে কাজ করব। কিন্তু অ্যাড–হক কমিটির কিছু সদস্য অতিরিক্ত টিকিটের দাবি করছেন, যা আমরা মানতে পারছি না। মূলত এ কারণেই এত নাটক।”

রাজস্থানের এই অভিযোগে বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা নির্বাচনকালীন সময়। স্বাভাবিকভাবেই নানা রকম নাটক হবে। সবাই নিজেকে目চোখে আনতে চায়। দুর্নীতি দমন ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে ক্রিকেটকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়। ৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয় পেয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার আটে রয়েছে। লক্ষ্ণৌর বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে হাতে ৬ উইকেট রেখেও শেষ ওভারে ৯ রান তুলতে ব্যর্থ হয় দলটি। দিল্লির বিপক্ষেও একই পরিস্থিতিতে তারা সুপার ওভারে হেরে যায়। এই পরপর ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করেই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ উঠে, যা নিয়ে এখন মাঠের বাইরেও উত্তপ্ত আলোচনার ঝড়।

রাজস্থান রয়্যালসের প্রতিবাদ এবং বিসিসিআইয়ের অবস্থান স্পষ্ট এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি নাটকীয় প্রচেষ্টা মাত্র। এখন দেখার বিষয়, আরসিএ এই অভিযোগের দায়ভার থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসে এবং দলটির পারফরম্যান্স কেমন হয় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে।