ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কানাডা: বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড ও উন্নত জীবনের দেশ বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজ বাতিল: সূচি থেকে বাদ পড়ল টাইগারদের সফর ‘আমি এই কাজ করিনি’ হাদি হত্যা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফয়সাল ইরান চালু করেছে সর্বোচ্চ মূল্যমানের ১০ মিলিয়ন রিয়াল নোট ঈদের আনন্দে বিষাদের ছায়া: সড়ক ও নদে প্রাণ গেল ২২ জনের যুদ্ধের ধাক্কায় এয়ারলাইন্স খাতে ক্ষতি ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২ ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫

ইসরায়েলি হামলায় গাজার শেষ হাসপাতাল ধ্বংস, নিহত ৩৭ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 155

ছবি সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ রবিবারের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের ছয় ভাই রয়েছেন, যারা ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছিলেন।

এছাড়া গাজা সিটির আল-আহলি আরব হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় গুরুতর আহত এক শিশুর মৃত্যু হয়। হাসপাতালটি ছিল গাজার শেষ সম্পূর্ণ সচল চিকিৎসা কেন্দ্র, যা এখন পুরোপুরি কার্যকারিতা হারিয়েছে।

আরও পড়ুন  আফগানিস্তানের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৪০০, দাবি তালেবানের

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাসপাতালের আইসিইউ ও অস্ত্রোপচার ইউনিট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে, আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হামলা চালিয়েছে কারণ ওই হাসপাতাল ভবনটি হামাসের কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে হামাসের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নির্দেশনা পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে হামলার সময় আশেপাশে বেসামরিক মানুষ এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের উপস্থিতি বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। হামলার ফলে পাশের একটি গির্জাও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বহু রাষ্ট্রনেতা সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করে বলছেন, যুদ্ধের মাঝেও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, শিশু ও নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার দাবি।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রতিদিনই অবনতির দিকে যাচ্ছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও ওষুধের চরম সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিটি হামলা বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন গাজা উপত্যকার দিকে, যেখানে প্রতিদিন মানবিক বিপর্যয়ের নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি হামলায় গাজার শেষ হাসপাতাল ধ্বংস, নিহত ৩৭ জন

আপডেট সময় ০৫:৩৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ রবিবারের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের ছয় ভাই রয়েছেন, যারা ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছিলেন।

এছাড়া গাজা সিটির আল-আহলি আরব হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় গুরুতর আহত এক শিশুর মৃত্যু হয়। হাসপাতালটি ছিল গাজার শেষ সম্পূর্ণ সচল চিকিৎসা কেন্দ্র, যা এখন পুরোপুরি কার্যকারিতা হারিয়েছে।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত, আহত ১৯

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাসপাতালের আইসিইউ ও অস্ত্রোপচার ইউনিট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে, আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হামলা চালিয়েছে কারণ ওই হাসপাতাল ভবনটি হামাসের কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে হামাসের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নির্দেশনা পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে হামলার সময় আশেপাশে বেসামরিক মানুষ এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের উপস্থিতি বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। হামলার ফলে পাশের একটি গির্জাও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বহু রাষ্ট্রনেতা সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করে বলছেন, যুদ্ধের মাঝেও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, শিশু ও নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার দাবি।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রতিদিনই অবনতির দিকে যাচ্ছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও ওষুধের চরম সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিটি হামলা বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন গাজা উপত্যকার দিকে, যেখানে প্রতিদিন মানবিক বিপর্যয়ের নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে।