ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইসিসিতে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার: প্রেস সচিব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 457

ছবি সংগৃহীত

 

জুলাই ও আগস্টে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। বিক্ষোভ দমনে চালানো সেই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান শত শত মানুষ, আহত হন বহু। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের হত্যার পেছনে ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  জুলাই গণহত্যার ভিডিও প্রদর্শন উদ্যোগ, শহরের বিভিন্ন মোড়ে প্রচার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, ঘটনার পর আলামত ধ্বংসে নেওয়া হয় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “শুধু ডেটা ডিলিট নয়, স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যাতে কিছুই পুনরুদ্ধার করা না যায়। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এসব তথ্য পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছি এবং সেগুলো আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, হেগ-এ পাঠানো সম্ভব কিনা, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। তার ভাষায়, “যদি পাঠানো যায়, তবে সারা বিশ্ব জানবে বাংলাদেশে কীভাবে নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। তবে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশন টিম ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এই হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় তারা জানায়, চাইলে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে রোম আইন অনুযায়ী গঠিত এই আন্তর্জাতিক আদালত বর্তমানে ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর সদস্য রাষ্ট্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইসিসিতে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার: প্রেস সচিব

আপডেট সময় ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

 

জুলাই ও আগস্টে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। বিক্ষোভ দমনে চালানো সেই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান শত শত মানুষ, আহত হন বহু। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের হত্যার পেছনে ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, ঘটনার পর আলামত ধ্বংসে নেওয়া হয় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “শুধু ডেটা ডিলিট নয়, স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যাতে কিছুই পুনরুদ্ধার করা না যায়। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এসব তথ্য পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছি এবং সেগুলো আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, হেগ-এ পাঠানো সম্ভব কিনা, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। তার ভাষায়, “যদি পাঠানো যায়, তবে সারা বিশ্ব জানবে বাংলাদেশে কীভাবে নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। তবে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশন টিম ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এই হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় তারা জানায়, চাইলে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে রোম আইন অনুযায়ী গঠিত এই আন্তর্জাতিক আদালত বর্তমানে ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর সদস্য রাষ্ট্র।