ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২ ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫ ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইসিসিতে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার: প্রেস সচিব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 227

ছবি সংগৃহীত

 

জুলাই ও আগস্টে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। বিক্ষোভ দমনে চালানো সেই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান শত শত মানুষ, আহত হন বহু। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের হত্যার পেছনে ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  ভালুকায় ৫০০ টাকার জন্য স্ত্রীকে খুন, লাশ খাটের নিচে!

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, ঘটনার পর আলামত ধ্বংসে নেওয়া হয় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “শুধু ডেটা ডিলিট নয়, স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যাতে কিছুই পুনরুদ্ধার করা না যায়। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এসব তথ্য পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছি এবং সেগুলো আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, হেগ-এ পাঠানো সম্ভব কিনা, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। তার ভাষায়, “যদি পাঠানো যায়, তবে সারা বিশ্ব জানবে বাংলাদেশে কীভাবে নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। তবে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশন টিম ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এই হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় তারা জানায়, চাইলে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে রোম আইন অনুযায়ী গঠিত এই আন্তর্জাতিক আদালত বর্তমানে ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর সদস্য রাষ্ট্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইসিসিতে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার: প্রেস সচিব

আপডেট সময় ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

 

জুলাই ও আগস্টে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। বিক্ষোভ দমনে চালানো সেই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান শত শত মানুষ, আহত হন বহু। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জাতিসংঘের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের হত্যার পেছনে ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  জুলাই গণহত্যার বিচার দেশে হবে, আইসিসিতে যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, ঘটনার পর আলামত ধ্বংসে নেওয়া হয় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “শুধু ডেটা ডিলিট নয়, স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যাতে কিছুই পুনরুদ্ধার করা না যায়। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এসব তথ্য পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছি এবং সেগুলো আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, হেগ-এ পাঠানো সম্ভব কিনা, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। তার ভাষায়, “যদি পাঠানো যায়, তবে সারা বিশ্ব জানবে বাংলাদেশে কীভাবে নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। তবে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশন টিম ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এই হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় তারা জানায়, চাইলে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে রোম আইন অনুযায়ী গঠিত এই আন্তর্জাতিক আদালত বর্তমানে ১২৫টি সদস্য দেশের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর সদস্য রাষ্ট্র।