ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গৌতম গম্ভীরকে হত্যার হুমকি, সতর্ক দিল্লি পুলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 154

ছবি সংগৃহীত

 

পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর উত্তাল গোটা ভারত। সেই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ভারতের ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। এবার তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলো ‘আইএস কাশ্মীর’ নামের এক জঙ্গি সংগঠন।

সম্প্রতি গম্ভীরের ব্যক্তিগত ইমেইলে একটি হুমকির বার্তা আসে। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ‘আই কিল ইউ’, অর্থাৎ, ‘আমি তোমাকে হত্যা করব’। এই হুমকির পর গম্ভীর দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং তার পরিবারসহ নিজের নিরাপত্তার দাবি জানান।

আরও পড়ুন  চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াড প্রকাশ: এক নজরে ৮ দলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা

গম্ভীর ওই ইমেইলের একটি কপি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গম্ভীরের রাজনৈতিক পরিচিতিও এই হুমকির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ভারতের শাসকদল বিজেপির সদস্য এবং আগে দিল্লি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর আগে গম্ভীর একাধিকবার এমন হুমকি পেয়েছেন। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার তার কাছে একই ধরনের হুমকি ইমেইল এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবারই সেই হুমকির পেছনে ছিল ‘আইএস কাশ্মীর’।

‘আইএস কাশ্মীর’ মূলত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের একটি শাখা। জম্মু-কাশ্মীর, কেরল, উত্তরপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় এই সংগঠন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে খিলাফতের আওতায় আনার ষড়যন্ত্র করছে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি।

দিল্লি পুলিশ গম্ভীরের বাসভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তৎপর হয়ে উঠেছে। গম্ভীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

ভারতের ক্রিকেট মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গম্ভীরের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে গম্ভীর যেমন ভারতের হয়ে মাঠে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, ঠিক তেমনি কোচ হিসেবেও তিনি সাহসী মন্তব্য করতে পিছপা হন না। আর এই স্পষ্টভাষী মনোভাবই হয়তো তাকে সন্ত্রাসীদের চোখে টার্গেট করেছে।

ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে এই ধরণের হুমকি ভারতীয় সমাজে সন্ত্রাসের ছায়া ফের নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গৌতম গম্ভীরকে হত্যার হুমকি, সতর্ক দিল্লি পুলিশ

আপডেট সময় ০১:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

 

পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর উত্তাল গোটা ভারত। সেই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ভারতের ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। এবার তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলো ‘আইএস কাশ্মীর’ নামের এক জঙ্গি সংগঠন।

সম্প্রতি গম্ভীরের ব্যক্তিগত ইমেইলে একটি হুমকির বার্তা আসে। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ‘আই কিল ইউ’, অর্থাৎ, ‘আমি তোমাকে হত্যা করব’। এই হুমকির পর গম্ভীর দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং তার পরিবারসহ নিজের নিরাপত্তার দাবি জানান।

আরও পড়ুন  ক্রিকেট, সিনেমার পর এবার রাজনীতির মাঠের দিকে নজর ডেভিড ওয়ার্নারের!

গম্ভীর ওই ইমেইলের একটি কপি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গম্ভীরের রাজনৈতিক পরিচিতিও এই হুমকির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ভারতের শাসকদল বিজেপির সদস্য এবং আগে দিল্লি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর আগে গম্ভীর একাধিকবার এমন হুমকি পেয়েছেন। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার তার কাছে একই ধরনের হুমকি ইমেইল এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবারই সেই হুমকির পেছনে ছিল ‘আইএস কাশ্মীর’।

‘আইএস কাশ্মীর’ মূলত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের একটি শাখা। জম্মু-কাশ্মীর, কেরল, উত্তরপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় এই সংগঠন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে খিলাফতের আওতায় আনার ষড়যন্ত্র করছে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি।

দিল্লি পুলিশ গম্ভীরের বাসভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তৎপর হয়ে উঠেছে। গম্ভীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

ভারতের ক্রিকেট মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গম্ভীরের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে গম্ভীর যেমন ভারতের হয়ে মাঠে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, ঠিক তেমনি কোচ হিসেবেও তিনি সাহসী মন্তব্য করতে পিছপা হন না। আর এই স্পষ্টভাষী মনোভাবই হয়তো তাকে সন্ত্রাসীদের চোখে টার্গেট করেছে।

ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে এই ধরণের হুমকি ভারতীয় সমাজে সন্ত্রাসের ছায়া ফের নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।