ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে ভারত মহাসাগরে জাহাজডুবি, বহু নাবিক নিখোঁজ কুর্দিদের অতিদ্রুত পক্ষ নির্বাচন করতে বলেছেন ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন-জাপান খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন কলম্বিয়া: আন্দেস, আমাজন ও ক্যারিবিয়ানের মিলনভূমি ইরানি হামলায় আহত দুই প্রবাসীকে দেখতে হাসপাতালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাহায্যের প্রস্তাব ইউক্রেনের আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষণা পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলায় জাহাজে নজিরবিহীন ডাকাতি: ইঞ্জিনিয়ার ও মালামালসহ গ্রেপ্তার ৩

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / 188

ছবি: সংগৃহীত

 

বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলে নোঙর করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় জাহাজের প্রধান ইঞ্জিনিয়ারসহ তিনজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় লুট হওয়া প্রায় ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশের একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—জাহাজের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল হক, পেশাদার ডাকাত সুমন হাওলাদার (২১) এবং ডাকাতির মালামাল ক্রেতা মো. সুমন হোসেন (৩০)।

আরও পড়ুন  আশুলিয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুন করে স্বর্ণালংকার ডাকাতি, ঘটনায় আতঙ্ক সর্বত্র

বুধবার (২৮ মে) দুপুরে মোংলার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ মে) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে পশুর চ্যানেলে নোঙর করা জাহাজটিতে সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। তারা ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ার পার্টস, বিভিন্ন ধরনের বিয়ারিং, ব্যাটারি ও চার্জারসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নেয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় জাহাজের নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ সুযোগে প্রধান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক স্থানীয় চক্রের সহায়তায় একটি সাজানো ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ডাকাত দলের মাধ্যমে মালামাল লুটিয়ে পরে তা বিক্রির মাধ্যমে লাভ ভাগাভাগির চক্রান্তে যুক্ত হন তিনি।

এ প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, “এটি নিছক ডাকাতি নয়, বরং জাহাজের ভেতর থেকে সংঘটিত একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মালামাল জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আটক তিনজনকে মোংলা থানায় সোপর্দ করা হবে।

কোস্টগার্ড আরও জানায়, জাহাজটির বেশিরভাগ নাবিক বিগত ছয় থেকে সাত মাস ধরে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং মালিক পক্ষের অবহেলাই ডাকাতির ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় জাহাজ মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মোংলায় জাহাজে নজিরবিহীন ডাকাতি: ইঞ্জিনিয়ার ও মালামালসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় ১০:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

 

বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলে নোঙর করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় জাহাজের প্রধান ইঞ্জিনিয়ারসহ তিনজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় লুট হওয়া প্রায় ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশের একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—জাহাজের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল হক, পেশাদার ডাকাত সুমন হাওলাদার (২১) এবং ডাকাতির মালামাল ক্রেতা মো. সুমন হোসেন (৩০)।

আরও পড়ুন  ঘাটাইলে শিক্ষাসফরের ৪ বাসে ডাকাতি, আতঙ্কে রাতভর পাহারায় গ্রামবাসী

বুধবার (২৮ মে) দুপুরে মোংলার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ মে) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে পশুর চ্যানেলে নোঙর করা জাহাজটিতে সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। তারা ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ার পার্টস, বিভিন্ন ধরনের বিয়ারিং, ব্যাটারি ও চার্জারসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নেয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় জাহাজের নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ সুযোগে প্রধান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক স্থানীয় চক্রের সহায়তায় একটি সাজানো ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ডাকাত দলের মাধ্যমে মালামাল লুটিয়ে পরে তা বিক্রির মাধ্যমে লাভ ভাগাভাগির চক্রান্তে যুক্ত হন তিনি।

এ প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, “এটি নিছক ডাকাতি নয়, বরং জাহাজের ভেতর থেকে সংঘটিত একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মালামাল জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আটক তিনজনকে মোংলা থানায় সোপর্দ করা হবে।

কোস্টগার্ড আরও জানায়, জাহাজটির বেশিরভাগ নাবিক বিগত ছয় থেকে সাত মাস ধরে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং মালিক পক্ষের অবহেলাই ডাকাতির ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় জাহাজ মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।