ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: তালাবদ্ধ সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম: ভরি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ছাড়াল আধ্যাত্মিক সাধনার সর্বজনীন মাধ্যম রোজা: বিভিন্ন ধর্মে উপবাসের চিত্র সীতাকুণ্ডের সেই ছোট্ট শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল? ঘাতকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি ইরানে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়, মোজতবা খামেনি সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আধ্যাত্মিক সাধনার সর্বজনীন মাধ্যম রোজা: বিভিন্ন ধর্মে উপবাসের চিত্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

ভোগ-বিলাসিতা ও জাগতিক মোহ ত্যাগ করে আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভের এক শাশ্বত উপায়ের নাম রোজা বা উপবাস। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জৈবিক চাহিদা উপেক্ষা করার নামই রোজা। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রোজা কেবল বর্তমান সময়ের মুমিনদের জন্যই নয়, বরং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ওপরও ফরজ ছিল। পৃথিবীর প্রধান ধর্মগুলোতে রোজার ধারণা ও পালনের ভিন্ন ভিন্ন রূপ রয়েছে।

ইসলাম ধর্মে রোজা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এই বিধান প্রতি বছর রমজান মাসে পালন করা ফরজ। সুস্থ ও সাবালক মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকেন। এছাড়া আশুরা ও আইয়ামে বিজের (চান্দ্র মাসের মধ্যবর্তী তিন দিন) নফল রোজার বিধানও রয়েছে।

ইহুদি ধর্মে উপবাস ইহুদিদের সবচেয়ে বড় উপবাসের দিন ‘ইয়োম কিপ্পুর’। অনুতাপ ও পাপ মার্জনা লাভের আশায় এদিন তারা টানা ২৫ ঘণ্টা পানাহার ও জাগতিক সুখ বিসর্জন দিয়ে প্রার্থনায় মগ্ন থাকে। এছাড়া মন্দির ধ্বংসের শোক পালনে তারা ‘তিশা বাআভ’-এর রোজাও পালন করে।

আরও পড়ুন  রোজা অবস্থায় অজু বা গোসলের সময় গলায় পানি গেলে করণীয় কি?

খ্রিস্ট ধর্মে উপবাস খ্রিস্টানদের মধ্যে আংশিক উপবাসের রীতি বেশি প্রচলিত। তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ রোজা হলো ‘লেন্টের উপবাস’, যা ৪০ দিন স্থায়ী হয়। এই সময়ে তারা মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করে এবং দিনে একবার পূর্ণ আহার গ্রহণ করে।

হিন্দু ধর্মে উপবাস সনাতন ধর্মে উপবাস বা ব্রতকে আত্মিক পরিশুদ্ধির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি চান্দ্র মাসের দুইবার ‘একাদশী’ তিথিতে উপবাস পালন করেন। এছাড়া মহাশিবরাত্রি ও নবরাত্রিতেও উপবাসের বিধান রয়েছে। তাদের উপবাসের ধরণও ভিন্ন—যেমন নির্জলা (পানিহীন), ফলাহার (শুধু ফল খাওয়া) বা একভুক্ত (দিনে একবার খাওয়া)।

বৌদ্ধ ও শিখ ধর্মে উপবাস বৌদ্ধ ধর্মে নির্দিষ্ট তিথিতে দুপুরের পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ভারী আহার পরিহার করার নিয়ম আছে। অন্যদিকে, শিখ ধর্মে উপবাস বাধ্যতামূলক না হলেও সংযম ও পরিমিত আহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে শোকের দিন বা ধর্মগুরুদের জন্মদিনে তারা আংশিক উপবাস পালন করে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, নাম বা পালনের ধরণ যা-ই হোক, পৃথিবীর সব প্রধান ধর্মই আধ্যাত্মিক উন্নতির সোপান হিসেবে রোজাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি মানুষের জৈবিক প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভে সহায়তা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আধ্যাত্মিক সাধনার সর্বজনীন মাধ্যম রোজা: বিভিন্ন ধর্মে উপবাসের চিত্র

আপডেট সময় ১২:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ভোগ-বিলাসিতা ও জাগতিক মোহ ত্যাগ করে আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভের এক শাশ্বত উপায়ের নাম রোজা বা উপবাস। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জৈবিক চাহিদা উপেক্ষা করার নামই রোজা। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রোজা কেবল বর্তমান সময়ের মুমিনদের জন্যই নয়, বরং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ওপরও ফরজ ছিল। পৃথিবীর প্রধান ধর্মগুলোতে রোজার ধারণা ও পালনের ভিন্ন ভিন্ন রূপ রয়েছে।

ইসলাম ধর্মে রোজা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এই বিধান প্রতি বছর রমজান মাসে পালন করা ফরজ। সুস্থ ও সাবালক মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকেন। এছাড়া আশুরা ও আইয়ামে বিজের (চান্দ্র মাসের মধ্যবর্তী তিন দিন) নফল রোজার বিধানও রয়েছে।

ইহুদি ধর্মে উপবাস ইহুদিদের সবচেয়ে বড় উপবাসের দিন ‘ইয়োম কিপ্পুর’। অনুতাপ ও পাপ মার্জনা লাভের আশায় এদিন তারা টানা ২৫ ঘণ্টা পানাহার ও জাগতিক সুখ বিসর্জন দিয়ে প্রার্থনায় মগ্ন থাকে। এছাড়া মন্দির ধ্বংসের শোক পালনে তারা ‘তিশা বাআভ’-এর রোজাও পালন করে।

আরও পড়ুন  রোজা অবস্থায় যদি কয়েল বা আগরবাতির ধোঁয়া নাকে যায়, তবে কি রোজা ভঙ্গ হবে?

খ্রিস্ট ধর্মে উপবাস খ্রিস্টানদের মধ্যে আংশিক উপবাসের রীতি বেশি প্রচলিত। তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ রোজা হলো ‘লেন্টের উপবাস’, যা ৪০ দিন স্থায়ী হয়। এই সময়ে তারা মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করে এবং দিনে একবার পূর্ণ আহার গ্রহণ করে।

হিন্দু ধর্মে উপবাস সনাতন ধর্মে উপবাস বা ব্রতকে আত্মিক পরিশুদ্ধির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি চান্দ্র মাসের দুইবার ‘একাদশী’ তিথিতে উপবাস পালন করেন। এছাড়া মহাশিবরাত্রি ও নবরাত্রিতেও উপবাসের বিধান রয়েছে। তাদের উপবাসের ধরণও ভিন্ন—যেমন নির্জলা (পানিহীন), ফলাহার (শুধু ফল খাওয়া) বা একভুক্ত (দিনে একবার খাওয়া)।

বৌদ্ধ ও শিখ ধর্মে উপবাস বৌদ্ধ ধর্মে নির্দিষ্ট তিথিতে দুপুরের পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ভারী আহার পরিহার করার নিয়ম আছে। অন্যদিকে, শিখ ধর্মে উপবাস বাধ্যতামূলক না হলেও সংযম ও পরিমিত আহারের ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে শোকের দিন বা ধর্মগুরুদের জন্মদিনে তারা আংশিক উপবাস পালন করে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, নাম বা পালনের ধরণ যা-ই হোক, পৃথিবীর সব প্রধান ধর্মই আধ্যাত্মিক উন্নতির সোপান হিসেবে রোজাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি মানুষের জৈবিক প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভে সহায়তা করে।