০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশকে যারা মানেনি, তারাই এখন অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে: মির্জা ফখরুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 70

ছবি সংগৃহীত

 

অতীতে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব স্বীকার করেনি, তারাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র ও দুষ্টামিতে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এখন কিছু গোষ্ঠীর প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যারা একসময় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, তারাই এখন নানা অপকৌশলের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোবে, নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে চলে যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরে যারা মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়েছে—সেই ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি। তারপরও আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতি করতে হলে সোজা পথে করতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ ধরনের বক্তব্য ভয়ংকর।’

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। যখন দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং তারেক রহমানের আধুনিক রাজনৈতিক ভাবনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে, তখনই এসব শক্তি ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়াতে মাঠে নেমেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে প্রথম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার কথা বলেছিলেন। তাই স্পষ্টভাবে বলছি, ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। এখনো কেউ কেউ বলছে নির্বাচন হতে দেবে না। বাস্তবতা হলো, তাদের জনগণের মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই। তিনটি ভোট পাওয়ার ক্ষমতাও নেই, অথচ বড় বড় কথা বলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে সরকার গড়ব, আর না করলে বিরোধী দলে থাকব। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আগে থেকেই এত গলাবাজির কারণ কী?’

তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। এখানে সিদ্ধান্ত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে নাকি উগ্রবাদী শক্তির হাতে যাবে। বিএনপি গণতন্ত্র, উদার রাজনীতি ও মানুষের কল্যাণের পথেই থাকতে চায়। সে লক্ষ্যেই দলের ৩১ দফা কর্মসূচি, চেয়ারম্যানের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাব, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের সিনিয়র নেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে যারা মানেনি, তারাই এখন অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

 

অতীতে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব স্বীকার করেনি, তারাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র ও দুষ্টামিতে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এখন কিছু গোষ্ঠীর প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যারা একসময় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, তারাই এখন নানা অপকৌশলের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোবে, নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে চলে যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরে যারা মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়েছে—সেই ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি। তারপরও আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতি করতে হলে সোজা পথে করতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ ধরনের বক্তব্য ভয়ংকর।’

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। যখন দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং তারেক রহমানের আধুনিক রাজনৈতিক ভাবনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে, তখনই এসব শক্তি ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়াতে মাঠে নেমেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে প্রথম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার কথা বলেছিলেন। তাই স্পষ্টভাবে বলছি, ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। এখনো কেউ কেউ বলছে নির্বাচন হতে দেবে না। বাস্তবতা হলো, তাদের জনগণের মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই। তিনটি ভোট পাওয়ার ক্ষমতাও নেই, অথচ বড় বড় কথা বলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে সরকার গড়ব, আর না করলে বিরোধী দলে থাকব। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আগে থেকেই এত গলাবাজির কারণ কী?’

তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। এখানে সিদ্ধান্ত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে নাকি উগ্রবাদী শক্তির হাতে যাবে। বিএনপি গণতন্ত্র, উদার রাজনীতি ও মানুষের কল্যাণের পথেই থাকতে চায়। সে লক্ষ্যেই দলের ৩১ দফা কর্মসূচি, চেয়ারম্যানের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাব, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের সিনিয়র নেতারা।