বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: বিনিয়োগ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে জোর
- আপডেট সময় ১০:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / 25
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি১৪) সাইডলাইনে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার (৩০ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।
আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি সরকারের নতুন দূরদর্শী বাণিজ্যনীতি, বাজার বহুমুখীকরণ কৌশল এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) ও এফটিএ নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে সফলভাবে ইপিএ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশের সঙ্গে সিইপিএ (CEPA) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রিজিওনাল কমপ্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগদানের বিষয়েও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সফলতার উদাহরণ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী কোরীয় উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বিশাল ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আমরা একটি চমৎকার ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করছি।”
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তাব
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং দ্রুত বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত ইপিএ আমাদের চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মডেল হতে পারে।”
তিনি বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণকে প্রয়োজনের তুলনায় কম উল্লেখ করে জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত এবং উৎপাদন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়া গভীরভাবে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে দুই দেশ একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।























