০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ: চানখাঁরপুলে ছয় হত্যার রায় মঙ্গলবার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 66

ছবি সংগৃহীত

 

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির ভাগ্য নির্ধারণ হবে মঙ্গলবার। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি দ্বিতীয় রায় হতে যাচ্ছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এদিন রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ের সম্পূর্ণ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হন।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। পরে ২৫ মে নথি পর্যালোচনা শেষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিনই ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে গুলি চালান। প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বিভিন্ন বই ও রিপোর্ট এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ সংযুক্ত করা হয়।

প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, একটি অডিও কল রেকর্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকে পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়ারলেসে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে শোনা যায়। ওই নির্দেশের পরই ঘটনাস্থলে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম। বাকি চারজন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলে।

২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন।

মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউশন সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং যারা নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের হুমকি দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ: চানখাঁরপুলে ছয় হত্যার রায় মঙ্গলবার

আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

 

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির ভাগ্য নির্ধারণ হবে মঙ্গলবার। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি দ্বিতীয় রায় হতে যাচ্ছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এদিন রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ের সম্পূর্ণ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হন।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। পরে ২৫ মে নথি পর্যালোচনা শেষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিনই ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে গুলি চালান। প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বিভিন্ন বই ও রিপোর্ট এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ সংযুক্ত করা হয়।

প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, একটি অডিও কল রেকর্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকে পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়ারলেসে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে শোনা যায়। ওই নির্দেশের পরই ঘটনাস্থলে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম। বাকি চারজন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলে।

২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন।

মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউশন সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং যারা নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের হুমকি দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।