পূর্বাচলে শুরু হলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
- আপডেট সময় ০৫:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 107
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) শুরু হয়েছে। শনিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা কেবল একটি পণ্য প্রদর্শনী নয়; এটি দেশের শিল্প, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি। তিন দশকের এই আয়োজন বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। রপ্তানি পণ্যের মানোন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, এই মেলা উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এবং উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ফলে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময়কে সামনে রেখে রপ্তানি বাণিজ্যের গতি ধরে রাখতে সরকার পণ্য উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভেন্যুতেই সম্প্রতি ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’ আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা বাজারের চাহিদা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন, দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোক ঘোষণার কারণে মেলার উদ্বোধন পূর্বনির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আজ অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের মেলায় পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট অনুযায়ী ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনা মূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, দেশীয় শিল্পের প্রসার, পণ্যের বিপণন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

























