ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে আধুনিক এসএসএফ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / 639

ছবি সংগৃহীত

 

সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার এসএসএফের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এসএসএফ একটি ক্ষুদ্র বাহিনী হলেও এর দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই বাহিনী আমার নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।”

আরও পড়ুন  এসএসএফকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

গত ১০ মাসে এসএসএফ দেশ-বিদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গভবন, কার্যালয়, বাসভবনসহ আমার যাতায়াত ও অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসএসএফ। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, চট্টগ্রাম বন্দরে সফর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে বাহিনীটি।”

ড. ইউনূস জানান, বিদেশ সফরের সময়ও এসএসএফ স্থানীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করে সফর সফল করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের সময় এসএসএফ পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।

বর্তমান যুগে নিরাপত্তা হুমকির প্রকৃতি দ্রুত বদলাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসএসএফ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি বাহিনী যমুনা ভবনের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। আশা করি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তাও উন্নত হবে।”

তিনি আরও জানান, এসএসএফ শিগগিরই পুরনো ভিএইচএফ রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেমের পরিবর্তে সর্বাধুনিক ইউএইচএফ সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জ তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, যা আগামী মাসেই ব্যবহারযোগ্য হবে।

জনভোগান্তি কমাতে এসএসএফকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বিমানবন্দরে ভিআইপি ফ্লাইটের কারণে এক ঘণ্টা ফ্লাইট বন্ধ রাখার নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে চৌকস সদস্য মনোনয়ন এবং প্রশিক্ষণ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

শেষে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রঘোষিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি বজায় রেখে সকল সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, দক্ষ নেতৃত্ব ও সদস্যদের নিষ্ঠার মাধ্যমে এসএসএফ আরও উন্নত ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে আধুনিক এসএসএফ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় ০৪:০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

 

সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার এসএসএফের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এসএসএফ একটি ক্ষুদ্র বাহিনী হলেও এর দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। এই বাহিনী আমার নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।”

আরও পড়ুন  পবিত্র মাহে রমজান শুরু, দেশবাসীকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

গত ১০ মাসে এসএসএফ দেশ-বিদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গভবন, কার্যালয়, বাসভবনসহ আমার যাতায়াত ও অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসএসএফ। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, চট্টগ্রাম বন্দরে সফর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে বাহিনীটি।”

ড. ইউনূস জানান, বিদেশ সফরের সময়ও এসএসএফ স্থানীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করে সফর সফল করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের সময় এসএসএফ পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।

বর্তমান যুগে নিরাপত্তা হুমকির প্রকৃতি দ্রুত বদলাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসএসএফ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি বাহিনী যমুনা ভবনের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। আশা করি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তাও উন্নত হবে।”

তিনি আরও জানান, এসএসএফ শিগগিরই পুরনো ভিএইচএফ রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেমের পরিবর্তে সর্বাধুনিক ইউএইচএফ সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জ তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, যা আগামী মাসেই ব্যবহারযোগ্য হবে।

জনভোগান্তি কমাতে এসএসএফকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বিমানবন্দরে ভিআইপি ফ্লাইটের কারণে এক ঘণ্টা ফ্লাইট বন্ধ রাখার নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে চৌকস সদস্য মনোনয়ন এবং প্রশিক্ষণ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

শেষে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রঘোষিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি বজায় রেখে সকল সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, দক্ষ নেতৃত্ব ও সদস্যদের নিষ্ঠার মাধ্যমে এসএসএফ আরও উন্নত ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।”