ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের শিকার সেই শিশুর মৃত্যু পাওনা টাকার বিরোধে চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় বোন খুন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরে ভিসা সেবা বন্ধ সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি সৌদি আরবে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলা, বিকট বিস্ফোরণ ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’, তেল পরিবহনে কঠোর বার্তা তেহরানের জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে জামায়াত ওমানের মধ্যস্থতার আলোচনার খবর ‘ভিত্তিহীন’: বলছে তেহরান ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি পরিপন্থী: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বরিশালের উপকূলজুড়ে অচল স্লুইসগেট, হুমকিতে কৃষি ও জনপদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
  • / 116

ছবি সংগৃহীত

 

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্লুইসগেটগুলো এক সময় ছিল লবণাক্ত পানি রোধে অন্যতম ভরসা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অবহেলায় পড়ে থেকে এখন সেগুলোর অনেকই পরিণত হয়েছে অকার্যকর যন্ত্রে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় স্থাপিত ২ হাজার ৬৮৬টি স্লুইসগেটের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে বিকল হয়ে রয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে অনায়াসেই প্রবেশ করছে নোনা পানি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও মানুষের বসতভিটা।

বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরগুনা ও বরিশাল জেলার অবস্থা আরও ভয়াবহ। এসব এলাকার হাজার হাজার কৃষক প্রতিবছর নোনা পানির আগ্রাসনে ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। পটুয়াখালীর কৃষক আল আমিন জানান, “বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা। ফসল পাকার আগেই নোনা পানি ঢুকে সব নষ্ট করে দেয়।”

আরও পড়ুন  শীর্ষে দিল্লি, দ্বিতীয় লাহোর ঢাকা অবস্থান তৃতীয়

বরগুনা জেলার বগী বাজার এলাকার স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন পুরোপুরি অকার্যকর। জেলার প্রায় ৭৫০টিরও বেশি স্লুইসগেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিপপুর এলাকার চিত্রও একইরকম। সেখানকার স্থানীয়রা জানান, এক সময় এসব স্লুইসগেট মানুষকে রক্ষা করত, কিন্তু এখন সেগুলোই হয়ে উঠেছে বিপদের কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বর্তমানে বিভাগের ২ হাজার ৬৮৬টি স্লুইসগেটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৪৬টি। বাকিগুলো চরম অবহেলায় পড়ে থেকে এখন পরিবেশ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য হুমকিস্বরূপ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, “সংস্কার ও নতুন স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

উপকূলীয় মানুষের একটাই দাবি প্রকল্প যেন দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হয়। কারণ প্রতি বছর লবণাক্ত পানির ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাসস্থান রক্ষা দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালের উপকূলজুড়ে অচল স্লুইসগেট, হুমকিতে কৃষি ও জনপদ

আপডেট সময় ১০:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

 

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্লুইসগেটগুলো এক সময় ছিল লবণাক্ত পানি রোধে অন্যতম ভরসা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অবহেলায় পড়ে থেকে এখন সেগুলোর অনেকই পরিণত হয়েছে অকার্যকর যন্ত্রে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় স্থাপিত ২ হাজার ৬৮৬টি স্লুইসগেটের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে বিকল হয়ে রয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে অনায়াসেই প্রবেশ করছে নোনা পানি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও মানুষের বসতভিটা।

বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরগুনা ও বরিশাল জেলার অবস্থা আরও ভয়াবহ। এসব এলাকার হাজার হাজার কৃষক প্রতিবছর নোনা পানির আগ্রাসনে ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। পটুয়াখালীর কৃষক আল আমিন জানান, “বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা। ফসল পাকার আগেই নোনা পানি ঢুকে সব নষ্ট করে দেয়।”

আরও পড়ুন  জলবায়ু সংকটে একসঙ্গে কাজের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

বরগুনা জেলার বগী বাজার এলাকার স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন পুরোপুরি অকার্যকর। জেলার প্রায় ৭৫০টিরও বেশি স্লুইসগেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিপপুর এলাকার চিত্রও একইরকম। সেখানকার স্থানীয়রা জানান, এক সময় এসব স্লুইসগেট মানুষকে রক্ষা করত, কিন্তু এখন সেগুলোই হয়ে উঠেছে বিপদের কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বর্তমানে বিভাগের ২ হাজার ৬৮৬টি স্লুইসগেটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৪৬টি। বাকিগুলো চরম অবহেলায় পড়ে থেকে এখন পরিবেশ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য হুমকিস্বরূপ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, “সংস্কার ও নতুন স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

উপকূলীয় মানুষের একটাই দাবি প্রকল্প যেন দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হয়। কারণ প্রতি বছর লবণাক্ত পানির ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাসস্থান রক্ষা দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।