০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘গুপ্ত দলের’ লোকেরা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান প্রিসাইডিং অফিসার যাতে ভোটের রেজাল্ট ছাড়া বের হতে না পারে: মির্জা আব্বাস বিএনপি কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে নয়: মির্জা ফখরুল গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৩ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু শাকিবের সঙ্গে ‘প্রেম’ নিয়ে মুখ খুললেন ফারিয়া ত্রিশালে যমুনা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ট্রাক দুমড়ে যাওয়ায় চালক আহত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫ জন জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত: ইসি সচিব আরব সাগরে ইরানি ড্রোনকে ধ্বংস করল মার্কিন এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান কোচিং সেন্টার বন্ধসহ নানা নিয়মের শিক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তুত

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন আজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 163

ছবি সংগৃহীত

 

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। তার পিতা আবদুল আলী ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পরিবারে ছিলো শিক্ষা ও প্রগতির পরিবেশ, যার প্রভাবেই জাহানারা ইমাম রক্ষণশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠেন।

জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামের সহযোগিতা ও উৎসাহে তিনি শিক্ষা জীবন আরও এগিয়ে নেন। কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জনের পর প্রাইভেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ করেন। পেশাগত জীবনে জাহানারা ইমাম শিক্ষকতা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। তবে সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে শহীদ হন রুমী। এই ব্যথাতুর ক্ষতির মধ্য দিয়ে জাহানারা ইমাম হয়ে ওঠেন ‘শহীদ জননী’। তিনি ছিলেন ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির’ আহ্বায়ক। ১০১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত করেন।

সাহিত্য অঙ্গনেও তিনি রেখে গেছেন শক্তিশালী উপস্থিতি। তার আত্মজৈবনিক রচনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, এবং ‘প্রবাসের দিনলিপি’।

জীবনের শেষ প্রান্তে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তার মরদেহ ঢাকা এনে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু এক জন ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রেরণার নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে তার ভূমিকা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন আজ

আপডেট সময় ০২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। তার পিতা আবদুল আলী ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পরিবারে ছিলো শিক্ষা ও প্রগতির পরিবেশ, যার প্রভাবেই জাহানারা ইমাম রক্ষণশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠেন।

জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামের সহযোগিতা ও উৎসাহে তিনি শিক্ষা জীবন আরও এগিয়ে নেন। কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জনের পর প্রাইভেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ করেন। পেশাগত জীবনে জাহানারা ইমাম শিক্ষকতা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। তবে সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে শহীদ হন রুমী। এই ব্যথাতুর ক্ষতির মধ্য দিয়ে জাহানারা ইমাম হয়ে ওঠেন ‘শহীদ জননী’। তিনি ছিলেন ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির’ আহ্বায়ক। ১০১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত করেন।

সাহিত্য অঙ্গনেও তিনি রেখে গেছেন শক্তিশালী উপস্থিতি। তার আত্মজৈবনিক রচনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, এবং ‘প্রবাসের দিনলিপি’।

জীবনের শেষ প্রান্তে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তার মরদেহ ঢাকা এনে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু এক জন ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রেরণার নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে তার ভূমিকা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়।