ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন আজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 257

ছবি সংগৃহীত

 

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। তার পিতা আবদুল আলী ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পরিবারে ছিলো শিক্ষা ও প্রগতির পরিবেশ, যার প্রভাবেই জাহানারা ইমাম রক্ষণশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠেন।

জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামের সহযোগিতা ও উৎসাহে তিনি শিক্ষা জীবন আরও এগিয়ে নেন। কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জনের পর প্রাইভেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ করেন। পেশাগত জীবনে জাহানারা ইমাম শিক্ষকতা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। তবে সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।

আরও পড়ুন  দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৩ কোটি টাকার প্রকল্পে গায়েব নথি ও দুর্নীতির খোঁজ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে শহীদ হন রুমী। এই ব্যথাতুর ক্ষতির মধ্য দিয়ে জাহানারা ইমাম হয়ে ওঠেন ‘শহীদ জননী’। তিনি ছিলেন ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির’ আহ্বায়ক। ১০১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত করেন।

সাহিত্য অঙ্গনেও তিনি রেখে গেছেন শক্তিশালী উপস্থিতি। তার আত্মজৈবনিক রচনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, এবং ‘প্রবাসের দিনলিপি’।

জীবনের শেষ প্রান্তে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তার মরদেহ ঢাকা এনে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু এক জন ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রেরণার নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে তার ভূমিকা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন আজ

আপডেট সময় ০২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। তার পিতা আবদুল আলী ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পরিবারে ছিলো শিক্ষা ও প্রগতির পরিবেশ, যার প্রভাবেই জাহানারা ইমাম রক্ষণশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠেন।

জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামের সহযোগিতা ও উৎসাহে তিনি শিক্ষা জীবন আরও এগিয়ে নেন। কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জনের পর প্রাইভেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ করেন। পেশাগত জীবনে জাহানারা ইমাম শিক্ষকতা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। তবে সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।

আরও পড়ুন  মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আগুন: ফায়ার সার্ভিসের তড়িৎ অভিযানে নিয়ন্ত্রণ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে শহীদ হন রুমী। এই ব্যথাতুর ক্ষতির মধ্য দিয়ে জাহানারা ইমাম হয়ে ওঠেন ‘শহীদ জননী’। তিনি ছিলেন ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির’ আহ্বায়ক। ১০১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত করেন।

সাহিত্য অঙ্গনেও তিনি রেখে গেছেন শক্তিশালী উপস্থিতি। তার আত্মজৈবনিক রচনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, এবং ‘প্রবাসের দিনলিপি’।

জীবনের শেষ প্রান্তে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তার মরদেহ ঢাকা এনে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুধু এক জন ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রেরণার নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে তার ভূমিকা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়।