ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

‘বিশ্বজুড়ে বর্জ্যের সভ্যতা, আত্মবিনাশের পথে মানবজাতি’: কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনূস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 174

ছবি: সংগৃহীত

 

বর্তমান সভ্যতা মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এই সভ্যতা সারাবিশ্বে কেবল বর্জ্য উৎপন্ন করছে, যা এক সময় আমাদের নিজস্ব অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় দুপুরে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের বি২৩৯ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি আবেদন চলবে আরও ২ দিন

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়। অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘তিন শূন্যের একটি বিশ্ব: শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদ মজুদ এবং শূন্য বেকারত্ব’। এই অধিবেশনে ড. ইউনূস তার আলোচিত ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সভ্যতার মধ্যে বাস করছি, যা শুধুই ধ্বংস ডেকে আনছে। পৃথিবীজুড়ে বর্জ্য সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা নিজেদের জন্যই মৃত্যু ডেকে আনছি।’

ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ফিরে আসার এখনই সময়। তরুণদের এগিয়ে এসে “থ্রি জিরো ক্লাব” গঠন করতে হবে। মাত্র পাঁচজন তরুণ একত্রিত হয়ে এই উদ্যোগ নিতে পারে, এবং সেখান থেকেই বদলে যেতে পারে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।’

তার বক্তব্যে ড. ইউনূস বিশ্বব্যাপী তরুণদের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, শূন্য কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদ জমা এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জনের মাধ্যমে একটি মানবিক ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়া সম্ভব।

ভাষণ শেষে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল সানির সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ড. ইউনূসের এই আহ্বান এখন তরুণ প্রজন্মের হাতে ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘বিশ্বজুড়ে বর্জ্যের সভ্যতা, আত্মবিনাশের পথে মানবজাতি’: কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনূস

আপডেট সময় ০৬:০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

 

বর্তমান সভ্যতা মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এই সভ্যতা সারাবিশ্বে কেবল বর্জ্য উৎপন্ন করছে, যা এক সময় আমাদের নিজস্ব অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় দুপুরে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের বি২৩৯ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন  দশ বছর পর আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়। অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘তিন শূন্যের একটি বিশ্ব: শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদ মজুদ এবং শূন্য বেকারত্ব’। এই অধিবেশনে ড. ইউনূস তার আলোচিত ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সভ্যতার মধ্যে বাস করছি, যা শুধুই ধ্বংস ডেকে আনছে। পৃথিবীজুড়ে বর্জ্য সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা নিজেদের জন্যই মৃত্যু ডেকে আনছি।’

ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ফিরে আসার এখনই সময়। তরুণদের এগিয়ে এসে “থ্রি জিরো ক্লাব” গঠন করতে হবে। মাত্র পাঁচজন তরুণ একত্রিত হয়ে এই উদ্যোগ নিতে পারে, এবং সেখান থেকেই বদলে যেতে পারে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।’

তার বক্তব্যে ড. ইউনূস বিশ্বব্যাপী তরুণদের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, শূন্য কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদ জমা এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জনের মাধ্যমে একটি মানবিক ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়া সম্ভব।

ভাষণ শেষে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল সানির সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ড. ইউনূসের এই আহ্বান এখন তরুণ প্রজন্মের হাতে ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকছে।