১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
কাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, অচল হওয়ার শঙ্কায় বহির্নোঙরও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ স্কুলছাত্রের মৃত্যু, আহত ১ বুড়িচংয়ে মাদক ব্যাবসায়ীদের হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু সোয়া চার লাখ পোস্টাল ব্যালট দেশে এলো বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক সাফল্য এশিয়ায় চতুর্থ দেশ হিসেবে F-35 যুদ্ধবিমান পাচ্ছে সিঙ্গাপুর পরমাণু স্থাপনার চাইতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে ইরান: এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ কোটি টাকার লটারি জিতলেন বাংলাদেশি প্রবাসী কারাগারে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু

আইফেল টাওয়ারে হিজাবের বিজ্ঞাপন, ফ্রান্সে তীব্র বিতর্ক ও মতবিরোধ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
  • / 83

ছবি সংগৃহীত

 

ফ্রান্সে আবারও ধর্মীয় পোশাককে ঘিরে উত্তপ্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে হিজাব। সম্প্রতি ইসলামি পোশাক ব্র্যান্ড ‘মেরাচি’ তাদের একটি ইনস্টাগ্রাম বিজ্ঞাপনে প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ারকে হিজাবে আবৃত করে প্রচারণা চালায়। এই বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও মতপার্থক্য।

বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস জানিয়েছে, ফ্রান্সে স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব পরা আইনিভাবে নিষিদ্ধ। এমন বাস্তবতায় দেশটির জাতীয় টেলিভিশন, রেডিও এবং সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপনটি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

ফরাসি সংবাদ চ্যানেল বিএফএম-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক লরেন্ট নিউম্যান বলেন, “যদিও হিজাব ফ্রান্সে কেবল স্কুলে নিষিদ্ধ, তবুও মেরাচির এই প্রচারণা সরল নয়। তারা দাবি করছে, এটি নিছক ‘বিনয়ী ফ্যাশন’, অথচ এর ধর্মীয় বার্তা সুস্পষ্ট।”

লে পয়েন্ত ম্যাগাজিনের সম্পাদক জেরালদিন ভোসনার মন্তব্য করেন, “বিজ্ঞাপনটি একটি বিভাজনমূলক বার্তা দেয়। এটি যেন বলছে, যারা হিজাব পরেন না, তারা বিনয়ী নন। এই মনোভাব ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে বিভেদ বাড়াতে পারে।”

ফ্রান্স এমন এক দেশ, যেখানে ধর্মীয় প্রতীক এবং পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। দেশটির ‘লা-সিসিতে’ (ধর্মনিরপেক্ষতা) বিশ্বাসী সমাজে হিজাবকে অনেকেই রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে দেখে থাকেন। আবার, মুসলিম নারীদের একটি বড় অংশ একে তাদের বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীক বলে মনে করেন।

এই বিজ্ঞাপন সেই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। কেউ এটিকে শিল্প ও স্বাধীন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন, কেউবা ধর্মীয় আগ্রাসনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

সব মিলিয়ে, ‘মেরাচি’র এই প্রচারণা আবারও মনে করিয়ে দিল ফ্যাশনের আড়ালে ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতির টানাপোড়েন ফ্রান্সে কতটা সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আইফেল টাওয়ারে হিজাবের বিজ্ঞাপন, ফ্রান্সে তীব্র বিতর্ক ও মতবিরোধ

আপডেট সময় ১২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

 

ফ্রান্সে আবারও ধর্মীয় পোশাককে ঘিরে উত্তপ্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে হিজাব। সম্প্রতি ইসলামি পোশাক ব্র্যান্ড ‘মেরাচি’ তাদের একটি ইনস্টাগ্রাম বিজ্ঞাপনে প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ারকে হিজাবে আবৃত করে প্রচারণা চালায়। এই বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও মতপার্থক্য।

বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস জানিয়েছে, ফ্রান্সে স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব পরা আইনিভাবে নিষিদ্ধ। এমন বাস্তবতায় দেশটির জাতীয় টেলিভিশন, রেডিও এবং সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপনটি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

ফরাসি সংবাদ চ্যানেল বিএফএম-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক লরেন্ট নিউম্যান বলেন, “যদিও হিজাব ফ্রান্সে কেবল স্কুলে নিষিদ্ধ, তবুও মেরাচির এই প্রচারণা সরল নয়। তারা দাবি করছে, এটি নিছক ‘বিনয়ী ফ্যাশন’, অথচ এর ধর্মীয় বার্তা সুস্পষ্ট।”

লে পয়েন্ত ম্যাগাজিনের সম্পাদক জেরালদিন ভোসনার মন্তব্য করেন, “বিজ্ঞাপনটি একটি বিভাজনমূলক বার্তা দেয়। এটি যেন বলছে, যারা হিজাব পরেন না, তারা বিনয়ী নন। এই মনোভাব ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে বিভেদ বাড়াতে পারে।”

ফ্রান্স এমন এক দেশ, যেখানে ধর্মীয় প্রতীক এবং পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। দেশটির ‘লা-সিসিতে’ (ধর্মনিরপেক্ষতা) বিশ্বাসী সমাজে হিজাবকে অনেকেই রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে দেখে থাকেন। আবার, মুসলিম নারীদের একটি বড় অংশ একে তাদের বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতীক বলে মনে করেন।

এই বিজ্ঞাপন সেই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। কেউ এটিকে শিল্প ও স্বাধীন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন, কেউবা ধর্মীয় আগ্রাসনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

সব মিলিয়ে, ‘মেরাচি’র এই প্রচারণা আবারও মনে করিয়ে দিল ফ্যাশনের আড়ালে ধর্ম, রাজনীতি ও সংস্কৃতির টানাপোড়েন ফ্রান্সে কতটা সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক।