ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেপালে জেন-জি প্রজন্মের জোয়ার; নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে রায় দিচ্ছে ভোটাররা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / 0

ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের নেতৃত্বে নজিরবিহীন বিক্ষোভ এবং সহিংসতায় ৭৭ জনের প্রাণহানির প্রায় ছয় মাস পর নতুন করে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের প্রত্যাশার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুই প্রতিবেশী শক্তি চীন ও ভারত এর মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে রয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়া, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির অভিযোগে জনগণের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭৭ জন নিহত হন। পরিস্থিতির চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন  সংস্কার ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: গোলাম পরওয়ার

এবারের নির্বাচনে দেশটির রাজনীতির পুরনো শক্তি নেপালি কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। গত তিন দশক ধরে এই দলগুলোই মূলত নেপালের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ৩৫ বছরে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নতুন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ভালো ফল করতে পারে। দলটি তাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও র‌্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহকে।

৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেও পরিচিত, তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে শক্ত সংযোগ গড়ে তুলেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে পি শর্মা ওলির পুরনো ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি আসনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য বলেন, জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নেপালের পার্লামেন্টে মোট ২৭৫ জন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি আসনভিত্তিক ভোটে এবং ১১০ জন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এরপরই ভোট গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক ফলাফল শুক্রবার জানা গেলেও সম্পূর্ণ ফল প্রকাশে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

ওলির পদত্যাগের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ভোট দেওয়া শুধু কাউকে বিজয়ী করার বিষয় নয়; এটি নাগরিকদের নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

এদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রায় সব প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার মূল বিষয় ছিল। তবে এসব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও অনেক ভোটারের মধ্যে এখনও দ্বিধা রয়েছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠে এক সংবাদপত্রের দোকানে রাজনৈতিক আলোচনা করতে গিয়ে ৫০ বছর বয়সী ভোটার রামকৃষ্ণ পান্ডে বলেন, পুরনো দলগুলো দুর্নীতি ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেনি। আবার নতুন দলগুলোকেও পুরোপুরি বিশ্বাস করা কঠিন। তাই কাকে সমর্থন দেব, তা এখনো ঠিক করতে পারিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে জেন-জি প্রজন্মের জোয়ার; নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে রায় দিচ্ছে ভোটাররা

আপডেট সময় ১১:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

তরুণদের নেতৃত্বে নজিরবিহীন বিক্ষোভ এবং সহিংসতায় ৭৭ জনের প্রাণহানির প্রায় ছয় মাস পর নতুন করে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের প্রত্যাশার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দুই প্রতিবেশী শক্তি চীন ও ভারত এর মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে রয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়া, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির অভিযোগে জনগণের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭৭ জন নিহত হন। পরিস্থিতির চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন  দ্রুত নির্বাচন দিন, দেশের প্রয়োজন জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার: ভিপি নূর

এবারের নির্বাচনে দেশটির রাজনীতির পুরনো শক্তি নেপালি কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। গত তিন দশক ধরে এই দলগুলোই মূলত নেপালের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ৩৫ বছরে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নতুন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ভালো ফল করতে পারে। দলটি তাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও র‌্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহকে।

৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেও পরিচিত, তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে শক্ত সংযোগ গড়ে তুলেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে পি শর্মা ওলির পুরনো ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি আসনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য বলেন, জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নেপালের পার্লামেন্টে মোট ২৭৫ জন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি আসনভিত্তিক ভোটে এবং ১১০ জন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এরপরই ভোট গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক ফলাফল শুক্রবার জানা গেলেও সম্পূর্ণ ফল প্রকাশে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

ওলির পদত্যাগের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ভোট দেওয়া শুধু কাউকে বিজয়ী করার বিষয় নয়; এটি নাগরিকদের নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

এদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রায় সব প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার মূল বিষয় ছিল। তবে এসব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও অনেক ভোটারের মধ্যে এখনও দ্বিধা রয়েছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠে এক সংবাদপত্রের দোকানে রাজনৈতিক আলোচনা করতে গিয়ে ৫০ বছর বয়সী ভোটার রামকৃষ্ণ পান্ডে বলেন, পুরনো দলগুলো দুর্নীতি ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেনি। আবার নতুন দলগুলোকেও পুরোপুরি বিশ্বাস করা কঠিন। তাই কাকে সমর্থন দেব, তা এখনো ঠিক করতে পারিনি।