০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি নিউক্যাসলকে বিদায় করে লিগ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি কুমিল্লায় হাঁস চুরির সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা ‘আহার গ্রহণও করা যাবে না’: নির্বাচনে কর্মকর্তাদের কঠোর নিরপেক্ষতার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুষ্টিয়ায় জামায়াত-বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষ

গাজায় মানবিক বিপর্যয়, ৪৮ ঘণ্টায় নিহত ৩০০’র বেশি ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 114

ছবি সংগৃহীত

 

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েক শতাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২৬টি রক্তাক্ত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আশ্রয়কেন্দ্র, ঘরবাড়ি, বাজার ও খাদ্যের সন্ধানে থাকা সাধারণ মানুষ।

শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায়ই ১১৮ জন নিহত ও ৫৮১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত খাদ্যসাহায্য কেন্দ্রে সহায়তা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

এছাড়া দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকার একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১৩ জন নিহত হন। গাজার পশ্চিমাঞ্চলে মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৬ জন।

গাজায় আশ্রয় নেওয়া আহমেদ মনসুর বলেন, “ভোরে ঘুম ভাঙে ভয়ঙ্কর বোমার শব্দে। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হয়েছে। অনেকে বলছে ড্রোন হামলা, কিন্তু শব্দ এত তীব্র ছিল যে কানে তালা লেগে যায়। আগুন ধরে যায় চারপাশে, মানুষ পুড়েই মারা গেছে।”

গাজা সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল সরাসরি বেসামরিক জনগণ, নারী-শিশু, আশ্রয়কেন্দ্র এবং খাদ্যের সন্ধানে থাকা মানুষদের টার্গেট করে এসব হামলা চালাচ্ছে।

গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম বলেন, “মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। হঠাৎ শুরু হয় গুলি, কোনো সতর্কতা থাকে না। আহতদের উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে, এই হামলাগুলোই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।”

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, জিএইচএফ-এর খাদ্যসাহায্য কেন্দ্রে ভিড় সামলাতে মার্কিন ঠিকাদারদের নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষীরা তাজা গুলি ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করছে। দুইজন মার্কিন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব নিরাপত্তাকর্মী অযোগ্য, অপরিচিত এবং অতিরিক্ত অস্ত্র বহনকারী, যাদের কার্যক্রমের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

তবে জিএইচএফ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “অভিযোগ আসার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি, এপির প্রতিবেদনের কোনো ভিত্তি নেই।”

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র উদ্বেগ থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মানবিক সংকট, খাদ্য ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছে অবরুদ্ধ গাজার লাখো বাসিন্দার।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় মানবিক বিপর্যয়, ৪৮ ঘণ্টায় নিহত ৩০০’র বেশি ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১১:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

 

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েক শতাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২৬টি রক্তাক্ত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আশ্রয়কেন্দ্র, ঘরবাড়ি, বাজার ও খাদ্যের সন্ধানে থাকা সাধারণ মানুষ।

শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায়ই ১১৮ জন নিহত ও ৫৮১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত খাদ্যসাহায্য কেন্দ্রে সহায়তা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

এছাড়া দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকার একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১৩ জন নিহত হন। গাজার পশ্চিমাঞ্চলে মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৬ জন।

গাজায় আশ্রয় নেওয়া আহমেদ মনসুর বলেন, “ভোরে ঘুম ভাঙে ভয়ঙ্কর বোমার শব্দে। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হয়েছে। অনেকে বলছে ড্রোন হামলা, কিন্তু শব্দ এত তীব্র ছিল যে কানে তালা লেগে যায়। আগুন ধরে যায় চারপাশে, মানুষ পুড়েই মারা গেছে।”

গাজা সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল সরাসরি বেসামরিক জনগণ, নারী-শিশু, আশ্রয়কেন্দ্র এবং খাদ্যের সন্ধানে থাকা মানুষদের টার্গেট করে এসব হামলা চালাচ্ছে।

গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম বলেন, “মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। হঠাৎ শুরু হয় গুলি, কোনো সতর্কতা থাকে না। আহতদের উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে, এই হামলাগুলোই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।”

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, জিএইচএফ-এর খাদ্যসাহায্য কেন্দ্রে ভিড় সামলাতে মার্কিন ঠিকাদারদের নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষীরা তাজা গুলি ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করছে। দুইজন মার্কিন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব নিরাপত্তাকর্মী অযোগ্য, অপরিচিত এবং অতিরিক্ত অস্ত্র বহনকারী, যাদের কার্যক্রমের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

তবে জিএইচএফ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “অভিযোগ আসার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি, এপির প্রতিবেদনের কোনো ভিত্তি নেই।”

এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র উদ্বেগ থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মানবিক সংকট, খাদ্য ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছে অবরুদ্ধ গাজার লাখো বাসিন্দার।