টাঙ্গাইলে হোস্টেল ভবনের নিচে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু
- আপডেট সময় ১০:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / 5
টাঙ্গাইল শহরের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনের নিচে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে শহরের সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হোস্টেল ভবনের নিচে মুইদ নামে ওই শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত মুইদ ভূঞাপুর উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানার ছেলে এবং তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুল ভবনের নিচে মুইদকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান প্রতিষ্ঠানের এক আয়া। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে।
সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি ক্লাস চালু রেখেছিল। তার দাবি, অতীতেও টাঙ্গাইলের কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।
একই ধরনের দাবি করেছেন পথচারী রাসেল মিয়া। তার মতে, আবাসিক ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে রাখার পর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নিহত শিক্ষার্থীর মা লায়লা বেগমের দাবি, তার ছেলে আগে ফোনে স্কুলের এক শিক্ষক সম্পর্কে অভিযোগ করেছিল। তিনি বলেন, ছেলে নাকি প্রায়ই জানাত যে ওই শিক্ষক তাকে নিয়ে নানা সমস্যায় ফেলছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, মুইদের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়েছিল এবং সে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন আদায়ের চাপের কারণে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি খোলা রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মর্গে গিয়ে মরদেহও দেখেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
























