০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
৩০ বছর পর বাংলাদেশহীন বিশ্বকাপ: হাহাকার আর রোমাঞ্চের দোলাচল খুলনায় তুচ্ছ ঘটনায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক, চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা: আইন কী বলে, শাস্তি কি? জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি,জামায়াত ছাড়া সরকার গঠনের ইঙ্গিত সুপার এআই দখলের লড়াইয়ে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টরা লীগ এক্টিভ হয়েছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে: ইনকিলাব মঞ্চ জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে আজ উত্তরবঙ্গের কোন ৩ জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান তারেক রহমানকে প্রকাশ্য আলোচনায় বসার আহ্বান জামায়াত আমিরের

৩০ বছর পর বাংলাদেশহীন বিশ্বকাপ: হাহাকার আর রোমাঞ্চের দোলাচল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

 

১৯৯৬ সালের পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশকে ছাড়াই। এই সময়ে বাংলাদেশের একাদশ কেমন হবে, টস জিতলে কী নেওয়া উচিত কিংবা উইকেটের আচরণ কেমন হতে পারে—এসব নিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তুমুল আলোচনা থাকার কথা ছিল। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হতো বাংলাদেশ। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে কিছুই আর স্বাভাবিক থাকেনি। ফলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেবলই এক দর্শক।

নিজেদের দলকে বিশ্বকাপে না দেখার এই বিষাদময় অনুভূতি সবশেষ ছিল ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরটিও হয়েছিল এই উপমহাদেশেই। বিশ্ব আসর তখন বাংলাদেশের জন্য ছিল কেবলই এক রূপকথার মঞ্চ। দীর্ঘ ৩০ বছর পর সেই পুরোনো হাহাকার আবার ফিরে এসেছে। যদিও এবারের আসর থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়ার কারণ ও প্রেক্ষাপট সবারই জানা, তবুও বিশ্বকাপের শুরুর দিনে এটুকু বিষাদ-চর্চা যেন অবধারিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশবিহীন সেই বিশ্বকাপ। ২০ ওভারের ক্রিকেটের এটি দশম বিশ্ব আসর। উদ্বোধনী দিনেই রয়েছে তিনটি আকর্ষণীয় ম্যাচ। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সকাল সাড়ে ১১টায় মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে যেখানে বাংলাদেশের মাঠে নামার কথা ছিল, সেখানে দুপুর সাড়ে ৩টায় ক্যারিবীয়দের মোকাবিলা করবে স্কটল্যান্ড। আর দিনের শেষ ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুম্বাইয়ের মাঠে স্বাগতিক ভারত লড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এবারও টুর্নামেন্ট শুরু করছে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে। সূর্যকুমার যাদবের অধীনে গত কয়েক বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স বিস্ময়কর রকমের ধারাবাহিক। গত দেড় বছরে তারা একটিও সিরিজ হারেনি এবং অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০২৪ বিশ্বকাপ ও ২০২৫ এশিয়া কাপে। ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং আর চার-ছক্কার সুনামি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ইতোমধ্যেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ফেভারিটদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকাকেও রাখতে হবে ওপরের দিকে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণা ভুলতে এবার তারা বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে গত বিশ্বকাপের পর টানা ছয়টি সিরিজে অপরাজিত থাকা অস্ট্রেলিয়া কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। চোটের কারণে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খেলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে অজিদের কখনোই হিসেবের বাইরে রাখা যায় না। ইংল্যান্ডের দলটি পালাবদলের মধ্য দিয়ে গেলেও তাদের হাতে যেকোনো সময় জ্বলে ওঠার মতো যথেষ্ট রসদ রয়েছে।

মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি এবার সব চেয়ে বেশি আলোচনায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের সমর্থনে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তারা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘোষণা ঘিরে নাটকীয়তা আর শঙ্কার মেঘ এখনও কাটেনি। এছাড়া এবারের আসরে বাড়তি কৌতূহল থাকবে ইতালির অভিষেক নিয়ে। ফুটবলের দেশ হলেও ক্রিকেটের এই বিশ্ব আসরে তারা কেমন করে, সেদিকে নজর থাকবে সবার।

সব মিলিয়ে দুই দেশের আটটি ভেন্যুতে যখন চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটবে আর গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়াবে, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুসারীদের হৃদয়ে কেবলই হাহাকার আর শূন্যতা বিরাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

৩০ বছর পর বাংলাদেশহীন বিশ্বকাপ: হাহাকার আর রোমাঞ্চের দোলাচল

আপডেট সময় ১২:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

১৯৯৬ সালের পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশকে ছাড়াই। এই সময়ে বাংলাদেশের একাদশ কেমন হবে, টস জিতলে কী নেওয়া উচিত কিংবা উইকেটের আচরণ কেমন হতে পারে—এসব নিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তুমুল আলোচনা থাকার কথা ছিল। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হতো বাংলাদেশ। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে কিছুই আর স্বাভাবিক থাকেনি। ফলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেবলই এক দর্শক।

নিজেদের দলকে বিশ্বকাপে না দেখার এই বিষাদময় অনুভূতি সবশেষ ছিল ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে। সেই আসরটিও হয়েছিল এই উপমহাদেশেই। বিশ্ব আসর তখন বাংলাদেশের জন্য ছিল কেবলই এক রূপকথার মঞ্চ। দীর্ঘ ৩০ বছর পর সেই পুরোনো হাহাকার আবার ফিরে এসেছে। যদিও এবারের আসর থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়ার কারণ ও প্রেক্ষাপট সবারই জানা, তবুও বিশ্বকাপের শুরুর দিনে এটুকু বিষাদ-চর্চা যেন অবধারিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশবিহীন সেই বিশ্বকাপ। ২০ ওভারের ক্রিকেটের এটি দশম বিশ্ব আসর। উদ্বোধনী দিনেই রয়েছে তিনটি আকর্ষণীয় ম্যাচ। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সকাল সাড়ে ১১টায় মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে যেখানে বাংলাদেশের মাঠে নামার কথা ছিল, সেখানে দুপুর সাড়ে ৩টায় ক্যারিবীয়দের মোকাবিলা করবে স্কটল্যান্ড। আর দিনের শেষ ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুম্বাইয়ের মাঠে স্বাগতিক ভারত লড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এবারও টুর্নামেন্ট শুরু করছে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে। সূর্যকুমার যাদবের অধীনে গত কয়েক বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্স বিস্ময়কর রকমের ধারাবাহিক। গত দেড় বছরে তারা একটিও সিরিজ হারেনি এবং অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০২৪ বিশ্বকাপ ও ২০২৫ এশিয়া কাপে। ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং আর চার-ছক্কার সুনামি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ইতোমধ্যেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ফেভারিটদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকাকেও রাখতে হবে ওপরের দিকে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণা ভুলতে এবার তারা বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে গত বিশ্বকাপের পর টানা ছয়টি সিরিজে অপরাজিত থাকা অস্ট্রেলিয়া কিছুটা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। চোটের কারণে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খেলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে অজিদের কখনোই হিসেবের বাইরে রাখা যায় না। ইংল্যান্ডের দলটি পালাবদলের মধ্য দিয়ে গেলেও তাদের হাতে যেকোনো সময় জ্বলে ওঠার মতো যথেষ্ট রসদ রয়েছে।

মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি এবার সব চেয়ে বেশি আলোচনায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের সমর্থনে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তারা ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘোষণা ঘিরে নাটকীয়তা আর শঙ্কার মেঘ এখনও কাটেনি। এছাড়া এবারের আসরে বাড়তি কৌতূহল থাকবে ইতালির অভিষেক নিয়ে। ফুটবলের দেশ হলেও ক্রিকেটের এই বিশ্ব আসরে তারা কেমন করে, সেদিকে নজর থাকবে সবার।

সব মিলিয়ে দুই দেশের আটটি ভেন্যুতে যখন চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটবে আর গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়াবে, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুসারীদের হৃদয়ে কেবলই হাহাকার আর শূন্যতা বিরাজ করবে।