মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে রেমিট্যান্সে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৩:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / 14
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করে বলেছেন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে কিছু প্রভাব তো পড়বেই। তবে সরকার রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুতই তা দৃশ্যমান হবে। এর সুফল আপনারা অচিরেই দেখতে পাবেন।’
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব প্রবাসী আছেন, তাদের সেফ সাইডে (নিরাপদে) রাখা। তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া। ওয়ার সিচুয়েশন (যুদ্ধ পরিস্থিতি) কোন দিকে যায়, সে ক্ষেত্রে তাদের দেশে আনার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। কেউ যদি ইনজুর্ড (আহত) হন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান মন্ত্রণালয়, সব দূতাবাস ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতিটা মুহূর্তে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমাদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যতটুকু সম্ভব, আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার চেষ্টা করছি।’
মন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে তিনজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব বাজার বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রমজান ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে, তবে আগামী মাস থেকে এ উদ্যোগে গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিলেটে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন এবং এ ধরনের অপরাধীদের পক্ষে কেউ তদবির করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের সাদা পোশাকে টহল বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রত্যেক মার্কেটের সামনে সিসি ক্যামেরা নজরদারি বাড়াতে হবে। মা-বোনেরা সন্ধ্যা পরে মার্কেটের আসেন, তাই মার্কেটের ভেতরেও বিশেষত রাতে, নজরদারি বাড়াতে হবে।’

























