০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

দুই বছরের মুনাফা পাবেন না পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 57

ছবি: সংগৃহীত

 

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাঁদের জমাকৃত আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অনুমোদনের পর বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে।

এই পাঁচটি ব্যাংক হলো সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংকের সম্পদ, দায় ও জনবল নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে ধাপে ধাপে এসব ব্যাংক বিলুপ্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, ব্যাংক খাতে চলমান ‘ব্যাংক রেজুলেশন স্কিম’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব আমানত হিসাবের স্থিতি নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য কোনো আমানতের ওপর মুনাফা গণনা করা হবে না। নির্ধারিত হেয়ারকাট প্রয়োগের মাধ্যমে আমানতের চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে। স্কিমটি সুষ্ঠু ও অভিন্নভাবে বাস্তবায়নের জন্য পুনর্গণনার কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষেত্রে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফা বাদ দিয়েই আমানতের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, একীভূত হয়ে গঠিত নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে, যা ‘ক’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে।

পাঁচ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের একটি অংশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে, যা ‘খ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ থেকে আরও সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে, যা ‘গ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে।

স্কিম অনুযায়ী, নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। একীভূতকরণ কার্যকর হওয়ার পর পাঁচ ব্যাংকের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত যেকোনো সময় উত্তোলন করা যাবে।

দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস পরপর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে উত্তোলন সম্পন্ন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সূচি প্রযোজ্য হবে।

মেয়াদি ও স্থায়ী আমানতের বিষয়ে স্কিমে বলা হয়েছে, এসব আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়া যাবে। বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন বা দীর্ঘমেয়াদে রূপান্তরিত হবে। চার বছরের বেশি মেয়াদি আমানত মেয়াদ পূর্তির পর পরিশোধযোগ্য হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই বছরের মুনাফা পাবেন না পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা

আপডেট সময় ১১:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাঁদের জমাকৃত আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অনুমোদনের পর বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে।

এই পাঁচটি ব্যাংক হলো সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংকের সম্পদ, দায় ও জনবল নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে ধাপে ধাপে এসব ব্যাংক বিলুপ্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, ব্যাংক খাতে চলমান ‘ব্যাংক রেজুলেশন স্কিম’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব আমানত হিসাবের স্থিতি নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য কোনো আমানতের ওপর মুনাফা গণনা করা হবে না। নির্ধারিত হেয়ারকাট প্রয়োগের মাধ্যমে আমানতের চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে। স্কিমটি সুষ্ঠু ও অভিন্নভাবে বাস্তবায়নের জন্য পুনর্গণনার কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষেত্রে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফা বাদ দিয়েই আমানতের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, একীভূত হয়ে গঠিত নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে, যা ‘ক’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে।

পাঁচ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের একটি অংশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে, যা ‘খ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ থেকে আরও সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে, যা ‘গ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে।

স্কিম অনুযায়ী, নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। একীভূতকরণ কার্যকর হওয়ার পর পাঁচ ব্যাংকের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত যেকোনো সময় উত্তোলন করা যাবে।

দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস পরপর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে উত্তোলন সম্পন্ন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সূচি প্রযোজ্য হবে।

মেয়াদি ও স্থায়ী আমানতের বিষয়ে স্কিমে বলা হয়েছে, এসব আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়া যাবে। বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন বা দীর্ঘমেয়াদে রূপান্তরিত হবে। চার বছরের বেশি মেয়াদি আমানত মেয়াদ পূর্তির পর পরিশোধযোগ্য হবে।