ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

বাংলাদেশের উপর ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক আজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / 236

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চলমান থাকলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘ওয়ান টু ওয়ান নিগোশিয়েশনের মাধ্যমে বিষয়টি নিরসন করা হবে।’

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৮ জুলাই ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক রয়েছে। আমাদের বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখানে উপস্থিত থেকে আলোচনা চালাবেন। বৈঠকের পরই চিত্র পরিষ্কার হবে।”

আরও পড়ুন  চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অগ্রগতি: চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই'র বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন জানান, “এই শুল্ক কেবলমাত্র করের বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামগ্রিক বাণিজ্যনীতি। তাই সমাধানের জন্য শুধু শুল্ক নয়, নীতিগত দিকেও পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।” তিনি জানান, বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের জন্য নীতির সমন্বয় জরুরি।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ৫৭টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর তখন ৩৭ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হয়, যা পরে ৯ এপ্রিল তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে বেশিরভাগ দেশের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশের বেশি। ইপিবির তথ্যে, এই অঙ্ক ৮৭৬ কোটি ডলার। এসব রপ্তানির মধ্যে ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক, এছাড়া হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ক্যাপ, জুতা ও পরচুলাও উল্লেখযোগ্য।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারকে আমরা শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি মোকাবেলার অনুরোধ করেছি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের শুল্ক আলোচনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করা হোক এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তাদেরও আলোচনার অংশ করা হোক।”

তিনি মনে করেন, সমন্বিত উদ্যোগেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা সম্ভব।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের উপর ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক আজ

আপডেট সময় ১০:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চলমান থাকলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘ওয়ান টু ওয়ান নিগোশিয়েশনের মাধ্যমে বিষয়টি নিরসন করা হবে।’

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৮ জুলাই ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক রয়েছে। আমাদের বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখানে উপস্থিত থেকে আলোচনা চালাবেন। বৈঠকের পরই চিত্র পরিষ্কার হবে।”

আরও পড়ুন  পুতিনের ওপর অসন্তোষ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন জানান, “এই শুল্ক কেবলমাত্র করের বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামগ্রিক বাণিজ্যনীতি। তাই সমাধানের জন্য শুধু শুল্ক নয়, নীতিগত দিকেও পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।” তিনি জানান, বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের জন্য নীতির সমন্বয় জরুরি।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ৫৭টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর তখন ৩৭ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হয়, যা পরে ৯ এপ্রিল তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে বেশিরভাগ দেশের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশের বেশি। ইপিবির তথ্যে, এই অঙ্ক ৮৭৬ কোটি ডলার। এসব রপ্তানির মধ্যে ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক, এছাড়া হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ক্যাপ, জুতা ও পরচুলাও উল্লেখযোগ্য।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারকে আমরা শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি মোকাবেলার অনুরোধ করেছি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের শুল্ক আলোচনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করা হোক এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তাদেরও আলোচনার অংশ করা হোক।”

তিনি মনে করেন, সমন্বিত উদ্যোগেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা সম্ভব।