ইভিএম ক্রয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়: নির্বাচন কমিশনের ৩ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

- আপডেট সময় ০৩:১৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 27
বিগত সরকারের সময় নির্বাচন ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয় প্রক্রিয়ায় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে এই জিজ্ঞাসাবাদ অনুষ্ঠিত হয়। তলবের পর হাজির হন নির্বাচন কমিশনের উপসচিব ফরহাদ হোসেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট ফারজানা আখতার এবং তৎকালীন সিনিয়র মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এদিন নির্বাচন কমিশনের মোট ছয় কর্মকর্তাকে তলব করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেন।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে ইভিএম ক্রয় করেছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দেড় লাখ টাকা মূল্যের ইভিএম ১৫ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে এ অভিযোগের আংশিক সত্যতাও মিলেছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের এই ইভিএম প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে প্রশ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো সমালোচনা করে আসছিল।
দুদক বলছে, যেহেতু জনগণের করের টাকা এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে, তাই অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত চালানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে পরে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিশাল অঙ্কের অর্থের অপচয় নিয়ে দেশের সাধারণ জনগণের মাঝেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।