ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

বিচারের আওতায় আনতেই হবে হাসিনা ও সহযোগীদের – জাতিসংঘ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 175

ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত ১০৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন অনুসারে, ওই সময়ের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু। টার্গেট কিলিংসহ মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নির্দেশ সরাসরি এসেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। এছাড়া, ১১,৭০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ‘জুলাই ওয়ারিয়র্স’-এর

জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আটটি বড় শহরে তদন্ত চালিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার মরিয়া প্রচেষ্টায় সাবেক সরকার ‘পরিকল্পিত ও সমন্বিত কৌশলে’ বিরোধীদের দমন করেছে। একের পর এক জোরপূর্বক নির্বাচনের পর জনসমর্থন হারিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করেছিল।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে র‍্যাব ও এনটিএমসিকে বিলুপ্ত করা, অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করা হয়েছে। মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক অপরাধীদের বিচারের জন্য ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতরা দায়মুক্তি পাচ্ছেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরকারকে জাতিসংঘের সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিচারের আওতায় আনতেই হবে হাসিনা ও সহযোগীদের – জাতিসংঘ

আপডেট সময় ০১:২২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত ১০৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন অনুসারে, ওই সময়ের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু। টার্গেট কিলিংসহ মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নির্দেশ সরাসরি এসেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। এছাড়া, ১১,৭০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘ: ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জুলাই অভ্যুত্থানে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে

জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আটটি বড় শহরে তদন্ত চালিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার মরিয়া প্রচেষ্টায় সাবেক সরকার ‘পরিকল্পিত ও সমন্বিত কৌশলে’ বিরোধীদের দমন করেছে। একের পর এক জোরপূর্বক নির্বাচনের পর জনসমর্থন হারিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করেছিল।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে র‍্যাব ও এনটিএমসিকে বিলুপ্ত করা, অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করা হয়েছে। মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক অপরাধীদের বিচারের জন্য ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতরা দায়মুক্তি পাচ্ছেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরকারকে জাতিসংঘের সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।