ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩
- আপডেট সময় ০৪:২৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 9
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয় ১৩ বছর বয়সী শিশু ইমরান হোসেন। তার পেটের বাঁ পাশে গুলি লেগেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইমরানের বোন ইশা মনি জানান, চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের (ওটি) জন্য নিয়েছেন এবং জরুরি ৮ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।
অন্য দুই আহত—বিএনপি নেতা হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩) ও কর্মী রফিক (৪০) বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনায়েতনগর ইউনিয়নের ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ কারখানার ঝুট নামানো নিয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত ১৮ মাস ধরে একটি পক্ষ ঝুট নামালেও অপর পক্ষ তা দখলের চেষ্টা করলে আজ এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তাণ্ডবে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষে সক্রিয়ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন খোকা দাবি করেন, প্রতিপক্ষ জসিম ও অভির নেতৃত্বাধীন গ্রুপ তাদের ওপর হামলা চালালে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।
অন্যদিকে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি জানান, বৈধভাবে যারা ঝুট নামাচ্ছিলেন তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে এটি রাজনৈতিক নয় বরং পুরোপুরি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বলে দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





















