ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’, তেল পরিবহনে কঠোর বার্তা তেহরানের জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে জামায়াত ওমানের মধ্যস্থতার আলোচনার খবর ‘ভিত্তিহীন’: বলছে তেহরান ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি পরিপন্থী: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাজিল: দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ও বৈচিত্র্যের শক্তি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ না দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি ওজন কমানোর ‘গোপন অস্ত্র’ পর্যাপ্ত ঘুম? দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ইন্টার মিয়ামির অতিমানবিক জয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়া সংগঠনগুলোর উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে বিদায়: দায় নিজের কাঁধেই নিলেন শেই হোপ

পিরোজপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 224

ছবি সংগৃহীত

 

বলেশ্বর নদীর নাব্য সংকট পিরোজপুর পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র ঘাটতির সৃষ্টি করেছে। ফলে পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিদিন দুই বেলা দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহের কথা থাকলেও এখন তা এক ঘণ্টাও মিলছে না। কখনো কখনো একদিন পরপর মিলছে অল্প পানি।

এই সংকটে পড়েছে পৌরসভার দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত পানির কলগুলোতে ঠিকমতো পানি আসছে না। যেটুকু পানি আসে, তা মোটরচালিত বাসিন্দারা তুলে নিচ্ছেন। ফলে যারা সাধারণভাবে কল থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসছেন, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে চরম সংকট বাড়ছে মৃত্যু, নেই আইনের প্রয়োগ

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে জেলা মর্যাদা পাওয়া পিরোজপুরের পৌরসভাটি প্রায় দেড় শ বছরের পুরনো। এক সময় পৌরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে নির্ধারিত পুকুর ও নলকূপ ব্যবহার করা হতো। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

পরে ১৯৮৩ সালে পিরোজপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগ পানি শোধনাগার স্থাপন করে। শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হতো, যা সময়ের ব্যবধানে বেড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ লিটারে দাঁড়ালেও, চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

বর্তমানে পৌরসভার সাত হাজার পরিবারের পানির চাহিদা রয়েছে, যেখানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র তিন হাজার পরিবারে। দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য ঘণ্টায় প্রয়োজন ১০ লাখ লিটার পানি, অথচ উৎপাদন মাত্র তিন লাখ লিটার।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনেয়ারা বেগম আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহে এসে খালি হাতে ফিরছেন। তিনি বলেন, ‘খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। পানির তীব্র সংকটে আছি। প্রায় সব পরিবারের একই অবস্থা।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছর ধরে পানির সংকট চরমে উঠেছে। পৌরসভার উদাসীনতায় তারা প্রতিদিন কষ্টে আছেন। সকাল-বিকেল মিলিয়ে দুই ঘণ্টা পানি দেওয়ার কথা থাকলেও এক ঘণ্টাও ঠিকমতো পানি পান না তারা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

সোমা মন্ডল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘পানির জন্য আমাদের জীবন অচল হয়ে গেছে। গোসল, রান্নাবান্না সব কিছুতেই সমস্যায় পড়েছি। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দ্রুত সমাধান চাই।’

পানির এই সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুর পৌরসভার পানি ও পয়োনিষ্কাশন সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বলেশ্বর নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদী খননের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বনি আমিন বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সরবরাহ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা কেটে যাবে।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

পিরোজপুরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৬:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

 

বলেশ্বর নদীর নাব্য সংকট পিরোজপুর পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র ঘাটতির সৃষ্টি করেছে। ফলে পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিদিন দুই বেলা দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহের কথা থাকলেও এখন তা এক ঘণ্টাও মিলছে না। কখনো কখনো একদিন পরপর মিলছে অল্প পানি।

এই সংকটে পড়েছে পৌরসভার দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত পানির কলগুলোতে ঠিকমতো পানি আসছে না। যেটুকু পানি আসে, তা মোটরচালিত বাসিন্দারা তুলে নিচ্ছেন। ফলে যারা সাধারণভাবে কল থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসছেন, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন  মব নয় সংহতি সংকট মোকাবিলা করতে পারে

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে জেলা মর্যাদা পাওয়া পিরোজপুরের পৌরসভাটি প্রায় দেড় শ বছরের পুরনো। এক সময় পৌরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে নির্ধারিত পুকুর ও নলকূপ ব্যবহার করা হতো। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

পরে ১৯৮৩ সালে পিরোজপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগ পানি শোধনাগার স্থাপন করে। শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হতো, যা সময়ের ব্যবধানে বেড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ লিটারে দাঁড়ালেও, চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

বর্তমানে পৌরসভার সাত হাজার পরিবারের পানির চাহিদা রয়েছে, যেখানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র তিন হাজার পরিবারে। দুই লক্ষাধিক মানুষের জন্য ঘণ্টায় প্রয়োজন ১০ লাখ লিটার পানি, অথচ উৎপাদন মাত্র তিন লাখ লিটার।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনেয়ারা বেগম আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহে এসে খালি হাতে ফিরছেন। তিনি বলেন, ‘খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। পানির তীব্র সংকটে আছি। প্রায় সব পরিবারের একই অবস্থা।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছর ধরে পানির সংকট চরমে উঠেছে। পৌরসভার উদাসীনতায় তারা প্রতিদিন কষ্টে আছেন। সকাল-বিকেল মিলিয়ে দুই ঘণ্টা পানি দেওয়ার কথা থাকলেও এক ঘণ্টাও ঠিকমতো পানি পান না তারা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

সোমা মন্ডল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘পানির জন্য আমাদের জীবন অচল হয়ে গেছে। গোসল, রান্নাবান্না সব কিছুতেই সমস্যায় পড়েছি। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দ্রুত সমাধান চাই।’

পানির এই সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুর পৌরসভার পানি ও পয়োনিষ্কাশন সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বলেশ্বর নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদী খননের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বনি আমিন বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সরবরাহ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা কেটে যাবে।’