ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

গাইবান্ধায় সরকারি গুদামে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কৃষক, ধান সংগ্রহে চরম ভাটা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • / 484

ছবি সংগৃহীত

 

গাইবান্ধায় চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান না দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার মাত্র সাড়ে চার শতাংশ ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। নির্ধারিত মূল্য ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা, সঙ্গে হয়রানি ও বাড়তি খরচ এসব কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, জেলার ১১টি খাদ্য গুদামে এবার ৮ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৬৯ মেট্রিক টন। অথচ জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি ধান।

আরও পড়ুন  প্রলোভনে হারাচ্ছে উর্বর জমি, গাইবান্ধায় বাড়ছে তামাকের বিষাক্ত ছোবল

সরকারিভাবে ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ টাকা কেজি বা ১ হাজার ৩২০ টাকা প্রতি মণ। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গুদামে ধান পৌঁছানোর পরিবহন খরচ ও হয়রানির আশঙ্কা।

সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষক ফরহাদ বলেন, “বাজারে ঘরে বসেই ব্যবসায়ীর কাছে ভালো দামে ধান বিক্রি করা যায়। গুদামে নিতে গেলে খরচ বাড়ে, লোকসান হয়, ঝামেলাও বেশি।”

তিনগাছ তলা এলাকার কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, “সরকার যদি সরাসরি নগদ টাকায়, সিন্ডিকেটমুক্ত এবং হয়রানিমুক্তভাবে ধান সংগ্রহ করে, তাহলে কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে গুদামে ধান দেবে।”

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের সাড়া পাওয়া যায়নি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তী মৌসুমে কৃষকদের আগ্রহী করতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় ধান সংগ্রহ অভিযান। কৃষকের স্বার্থে যদি সরকারি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও লাভজনক মূল্য নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে এমন ব্যর্থতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাইবান্ধায় সরকারি গুদামে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কৃষক, ধান সংগ্রহে চরম ভাটা

আপডেট সময় ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

 

গাইবান্ধায় চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান না দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার মাত্র সাড়ে চার শতাংশ ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। নির্ধারিত মূল্য ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা, সঙ্গে হয়রানি ও বাড়তি খরচ এসব কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, জেলার ১১টি খাদ্য গুদামে এবার ৮ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৬৯ মেট্রিক টন। অথচ জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি ধান।

আরও পড়ুন  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হোটেল শ্রমিক গ্রেপ্তার

সরকারিভাবে ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ টাকা কেজি বা ১ হাজার ৩২০ টাকা প্রতি মণ। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গুদামে ধান পৌঁছানোর পরিবহন খরচ ও হয়রানির আশঙ্কা।

সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষক ফরহাদ বলেন, “বাজারে ঘরে বসেই ব্যবসায়ীর কাছে ভালো দামে ধান বিক্রি করা যায়। গুদামে নিতে গেলে খরচ বাড়ে, লোকসান হয়, ঝামেলাও বেশি।”

তিনগাছ তলা এলাকার কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, “সরকার যদি সরাসরি নগদ টাকায়, সিন্ডিকেটমুক্ত এবং হয়রানিমুক্তভাবে ধান সংগ্রহ করে, তাহলে কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে গুদামে ধান দেবে।”

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের সাড়া পাওয়া যায়নি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তী মৌসুমে কৃষকদের আগ্রহী করতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় ধান সংগ্রহ অভিযান। কৃষকের স্বার্থে যদি সরকারি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও লাভজনক মূল্য নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে এমন ব্যর্থতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।