ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু

ইরান সর্বদা যেকোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত, ট্রাম্পের চাহিদা আমাদের বিবেচনায় নেই: আরাঘচি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • / 384

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতি না বদলালে তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরান সবসময় শান্তির পক্ষে, তবে যুদ্ধ হলে আমরা প্রস্তুত, ভয় পাই না।”

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তিতে সম্মতির জন্য দুই মাস সময় দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেন সরাসরি হামলার হুমকিও। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাড়াবাড়ি না করার’ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প বৈঠকে বদমাশ জেলেনস্কির প্রতি সংযম দেখিয়েছেন: রাশিয়া

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তার ভাষায়, “সব সমস্যা যুদ্ধ দিয়ে মেটানো যায় না।”

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, “চিঠি পাঠানো কূটনীতির অংশ হলেও, যখন তা হুমকি ও চাপের সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা আর গ্রহণযোগ্য থাকে না। আমরাও জবাব দেবো নিজস্ব কূটনৈতিক পথে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের পররাষ্ট্রনীতি শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। কিন্তু যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে, আমরা প্রস্তুত।”

ট্রাম্পের আচরণকে “একপাক্ষিক ও আগ্রাসী” আখ্যা দিয়ে আরাঘচি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা মেটাতে আলোচনায় যাবো না। আমাদের সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে।”

২০১৮ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে যা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরান বলছে, তারা আলোচনার বিরুদ্ধে নয়। তবে একতরফা চাপ ও হুমকির রাজনীতি চলতে থাকলে, কোনো ধরনের সংলাপ সম্ভব নয়। যুদ্ধ এড়াতে হলে, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকেই নিজের অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে এমন বার্তাই যেন দিলো তেহরান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান সর্বদা যেকোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত, ট্রাম্পের চাহিদা আমাদের বিবেচনায় নেই: আরাঘচি

আপডেট সময় ০৩:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতি না বদলালে তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরান সবসময় শান্তির পক্ষে, তবে যুদ্ধ হলে আমরা প্রস্তুত, ভয় পাই না।”

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তিতে সম্মতির জন্য দুই মাস সময় দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেন সরাসরি হামলার হুমকিও। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাড়াবাড়ি না করার’ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে বার্তা, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে সিনেটের সমর্থন

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তার ভাষায়, “সব সমস্যা যুদ্ধ দিয়ে মেটানো যায় না।”

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, “চিঠি পাঠানো কূটনীতির অংশ হলেও, যখন তা হুমকি ও চাপের সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা আর গ্রহণযোগ্য থাকে না। আমরাও জবাব দেবো নিজস্ব কূটনৈতিক পথে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের পররাষ্ট্রনীতি শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। কিন্তু যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে, আমরা প্রস্তুত।”

ট্রাম্পের আচরণকে “একপাক্ষিক ও আগ্রাসী” আখ্যা দিয়ে আরাঘচি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা মেটাতে আলোচনায় যাবো না। আমাদের সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে।”

২০১৮ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে যা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরান বলছে, তারা আলোচনার বিরুদ্ধে নয়। তবে একতরফা চাপ ও হুমকির রাজনীতি চলতে থাকলে, কোনো ধরনের সংলাপ সম্ভব নয়। যুদ্ধ এড়াতে হলে, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকেই নিজের অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে এমন বার্তাই যেন দিলো তেহরান।