ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের: চিফ প্রসিকিউটর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • / 494

ছবি সংগৃহীত

 

 

আন্তর্জাতিক মানের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকেই নিতে হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বললেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তার মতে, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলেও, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র সরকারের।

আরও পড়ুন  কেরানীগঞ্জে ৬ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রোববার (২৩ মার্চ) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আলোচিত আশুলিয়া লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে ট্রাইব্যুনালে। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের ঘটনার প্রেক্ষিতে এটাই প্রথম মামলা যার তদন্ত সম্পন্ন হলো।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ৭৫ জন। তখনই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এক মর্মান্তিক ভিডিও যেখানে দেখা যায়, দুজন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত দেহগুলো ভ্যানে তুলছেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একে একে লাশগুলো থানার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর একটি পুলিশ ভ্যানে ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সেই ছবি গোটা জাতিকে হতবাক করে তোলে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি হয় নিন্দার ঝড়।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মামলার তদন্তে ভিডিও বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মামলা থেকে একটি উদাহরণ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বিচারের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের বিচার করতে হলে সময় লাগবে। তাড়াহুড়ো করলে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হতে পারে।”

এদিকে নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের প্রশ্ন যদি প্রমাণসহ এমন জঘন্য অপরাধের বিচার দীর্ঘায়িত হয়, তবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস কোথায় দাঁড়াবে?

সরকার এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মামলা শুধু বিচার নয়, রাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির একটি পরীক্ষাও বটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৫:৪২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

 

 

আন্তর্জাতিক মানের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকেই নিতে হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বললেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তার মতে, আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলেও, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র সরকারের।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারি

রোববার (২৩ মার্চ) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আলোচিত আশুলিয়া লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে ট্রাইব্যুনালে। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের ঘটনার প্রেক্ষিতে এটাই প্রথম মামলা যার তদন্ত সম্পন্ন হলো।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ৭৫ জন। তখনই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এক মর্মান্তিক ভিডিও যেখানে দেখা যায়, দুজন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত দেহগুলো ভ্যানে তুলছেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একে একে লাশগুলো থানার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর একটি পুলিশ ভ্যানে ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সেই ছবি গোটা জাতিকে হতবাক করে তোলে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি হয় নিন্দার ঝড়।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মামলার তদন্তে ভিডিও বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মামলা থেকে একটি উদাহরণ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বিচারের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের বিচার করতে হলে সময় লাগবে। তাড়াহুড়ো করলে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হতে পারে।”

এদিকে নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের প্রশ্ন যদি প্রমাণসহ এমন জঘন্য অপরাধের বিচার দীর্ঘায়িত হয়, তবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস কোথায় দাঁড়াবে?

সরকার এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মামলা শুধু বিচার নয়, রাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির একটি পরীক্ষাও বটে।