ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মদিনার ঐতিহাসিক ‘মসজিদে বনু আনিফ’: পাথরে গাঁথা প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন দৌলতদিয়ায় বাসডুবি গঠনায় নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের লিগ্যাল নোটিশ পঞ্চগড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে ‘নিষেধ’: রাজশাহী-১ আসনের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে ওসির ওপর হামলার অভিযোগ,যুব জামায়াত নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কৃষিতে নতুন দিগন্ত: উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রণোদনা ও প্রযুক্তিতে জোর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১৫ এপ্রিল: যে ভাবে নিবে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি ফেসবুকে রিলস ও পোস্ট শেয়ার করে মাসে ৩ হাজার ডলার আয়ের সুযোগ গরমে ত্বকের যত্নে ৮ সহজ অভ্যাস, না মানলে হতে পারে ত্বকের নানা সমস্যা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জেনে নিন: রোজা পালনে অসুস্থ ও অক্ষমদের জন্য ইসলামে বিশেষ ছাড় ও ফিদিয়ার বিধান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / 246

ছবি সংগৃহীত

 

রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার কারণে রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়, অথবা কেউ যদি সফরে থাকেন, তাঁদের জন্য ইসলামে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে যাঁরা বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা রাখতে অপারগ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখার সম্ভাবনাও নেই, তাঁদের জন্য ফিদিয়ার বিধান রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘যারা অসুস্থ থাকবে বা সফরে থাকবে, তারা অন্য সময়ে এর সমপরিমাণ রোজা পূর্ণ করবে। আর যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তারা প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন অভাবীকে খাদ্য দান করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪) অর্থাৎ যাঁরা সাময়িক অসুস্থ, তাঁরা পরে কাজা আদায় করবেন, কিন্তু চিরস্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা ফিদিয়া প্রদান করবেন।

আরও পড়ুন  রোজা শুরুর আগেই ছোলার সরবরাহে স্বস্তি, দাম কমার আশা

সফরে থাকা অবস্থায়ও রোজা রাখা উত্তম, তবে যদি কষ্ট হয়, তাহলে রোজা না রেখে পরে তা কাজা করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার রমজান মাসে মক্কার পথে রোজা রেখেছিলেন, কিন্তু কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছে তা ভেঙে ফেলেন। পরে সাহাবিরাও তাঁর অনুসরণ করেন। (বুখারি: ১৮২০)

ফিদিয়া হলো রোজার পরিবর্তে দান। একজন ব্যক্তি যদি রোজা রাখতে অক্ষম হন এবং ভবিষ্যতেও তা কাজা করার সম্ভাবনা না থাকে, তবে প্রতিটি রোজার জন্য একজন গরিবকে খাদ্য দান করতে হবে বা এর সমমূল্যের অর্থ দিতে হবে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, এক রোজার ফিদিয়ার পরিমাণ এক সা’ খাদ্য, যা প্রায় সাড়ে তিন কেজির সমপরিমাণ। এটি গম, খেজুর, যব, কিশমিশ বা অন্য কোনো উপযোগী খাদ্যদ্রব্য হতে পারে।

একজন ব্যক্তি একাধিক দিনের ফিদিয়া একবারে দিতে পারেন অথবা একাধিক ব্যক্তির ফিদিয়া একজনের কাছে দিতে পারেন। ফিদিয়া যাঁরা গ্রহণ করতে পারেন, তাঁরা জাকাত গ্রহণের উপযোগী ব্যক্তিদের মতোই, অর্থাৎ অভাবী ও অসহায় মানুষ।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি ফিদিয়া দেওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং রোজা রাখার ক্ষমতা ফিরে পান, তাহলে তাঁকে সেই রোজাগুলো কাজা করে নিতে হবে। কারণ ফিদিয়া রোজার স্থলাভিষিক্ত নয়, বরং এটি চূড়ান্ত অক্ষমতার ক্ষেত্রে অনুমোদিত একটি বিকল্প ব্যবস্থা।

ফিদিয়া প্রদান করার পদ্ধতি যেকোনো খাদ্যদ্রব্য বা নগদ অর্থের মাধ্যমে হতে পারে। তবে যে উপায়ে দানগ্রহীতার বেশি উপকার হয়, সেটিই সর্বোত্তম।

নিউজটি শেয়ার করুন

জেনে নিন: রোজা পালনে অসুস্থ ও অক্ষমদের জন্য ইসলামে বিশেষ ছাড় ও ফিদিয়ার বিধান

আপডেট সময় ০৩:৩৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

 

রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার কারণে রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়, অথবা কেউ যদি সফরে থাকেন, তাঁদের জন্য ইসলামে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে যাঁরা বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা রাখতে অপারগ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে রোজা রাখার সম্ভাবনাও নেই, তাঁদের জন্য ফিদিয়ার বিধান রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘যারা অসুস্থ থাকবে বা সফরে থাকবে, তারা অন্য সময়ে এর সমপরিমাণ রোজা পূর্ণ করবে। আর যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তারা প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন অভাবীকে খাদ্য দান করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪) অর্থাৎ যাঁরা সাময়িক অসুস্থ, তাঁরা পরে কাজা আদায় করবেন, কিন্তু চিরস্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা ফিদিয়া প্রদান করবেন।

আরও পড়ুন  আজ নির্ধারিত হবে রোজার শুরু, সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

সফরে থাকা অবস্থায়ও রোজা রাখা উত্তম, তবে যদি কষ্ট হয়, তাহলে রোজা না রেখে পরে তা কাজা করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার রমজান মাসে মক্কার পথে রোজা রেখেছিলেন, কিন্তু কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছে তা ভেঙে ফেলেন। পরে সাহাবিরাও তাঁর অনুসরণ করেন। (বুখারি: ১৮২০)

ফিদিয়া হলো রোজার পরিবর্তে দান। একজন ব্যক্তি যদি রোজা রাখতে অক্ষম হন এবং ভবিষ্যতেও তা কাজা করার সম্ভাবনা না থাকে, তবে প্রতিটি রোজার জন্য একজন গরিবকে খাদ্য দান করতে হবে বা এর সমমূল্যের অর্থ দিতে হবে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, এক রোজার ফিদিয়ার পরিমাণ এক সা’ খাদ্য, যা প্রায় সাড়ে তিন কেজির সমপরিমাণ। এটি গম, খেজুর, যব, কিশমিশ বা অন্য কোনো উপযোগী খাদ্যদ্রব্য হতে পারে।

একজন ব্যক্তি একাধিক দিনের ফিদিয়া একবারে দিতে পারেন অথবা একাধিক ব্যক্তির ফিদিয়া একজনের কাছে দিতে পারেন। ফিদিয়া যাঁরা গ্রহণ করতে পারেন, তাঁরা জাকাত গ্রহণের উপযোগী ব্যক্তিদের মতোই, অর্থাৎ অভাবী ও অসহায় মানুষ।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি ফিদিয়া দেওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং রোজা রাখার ক্ষমতা ফিরে পান, তাহলে তাঁকে সেই রোজাগুলো কাজা করে নিতে হবে। কারণ ফিদিয়া রোজার স্থলাভিষিক্ত নয়, বরং এটি চূড়ান্ত অক্ষমতার ক্ষেত্রে অনুমোদিত একটি বিকল্প ব্যবস্থা।

ফিদিয়া প্রদান করার পদ্ধতি যেকোনো খাদ্যদ্রব্য বা নগদ অর্থের মাধ্যমে হতে পারে। তবে যে উপায়ে দানগ্রহীতার বেশি উপকার হয়, সেটিই সর্বোত্তম।