ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিন্দুদের ওপর হামলার কারণ ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক – মার্কিন সিনেটরকে জানালেন ড. ইউনূস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / 257

ছবি: সংগৃহীত

 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বর্ণ, ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার অধিকার সংরক্ষণে সরকার আপসহীন।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই কথা বলেন। আলোচনায় উঠে আসে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত আগস্টে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তার সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, একদিনেই নিহত ৫১

সিনেটর গ্যারি পিটার্স জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অনেকে সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই হামলাগুলো নিয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রেও প্রভাব ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশ সফর করে বাস্তব পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখা। তিনি মার্কিন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীদের বাংলাদেশে এসে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাস্তব চিত্র দেখার আহ্বান জানান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সীমিত সংস্কারে রাজি হলে আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, যদি তারা বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে থাকে, তাহলে নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের দিন একটি বড় উদযাপন হবে, যেমনটি আমরা অতীতে দেখেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই মাসে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা ঠিক করবে। একবার তারা মূল কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারের সঙ্গে একমত হলেই এই ঘোষণা চূড়ান্ত হবে।

সিনেটর পিটার্স বাংলাদেশে সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হিন্দুদের ওপর হামলার কারণ ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক – মার্কিন সিনেটরকে জানালেন ড. ইউনূস

আপডেট সময় ১২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বর্ণ, ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার অধিকার সংরক্ষণে সরকার আপসহীন।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই কথা বলেন। আলোচনায় উঠে আসে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত আগস্টে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তার সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলায় ১৫ জন নিহত

সিনেটর গ্যারি পিটার্স জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অনেকে সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই হামলাগুলো নিয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রেও প্রভাব ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশ সফর করে বাস্তব পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখা। তিনি মার্কিন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীদের বাংলাদেশে এসে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাস্তব চিত্র দেখার আহ্বান জানান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সীমিত সংস্কারে রাজি হলে আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, যদি তারা বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে থাকে, তাহলে নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের দিন একটি বড় উদযাপন হবে, যেমনটি আমরা অতীতে দেখেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই মাসে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা ঠিক করবে। একবার তারা মূল কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারের সঙ্গে একমত হলেই এই ঘোষণা চূড়ান্ত হবে।

সিনেটর পিটার্স বাংলাদেশে সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করে।