ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পল্লবীতে নিরাপত্তা প্রহরী সালাহউদ্দিন হত্যা: ঘাতক অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাই পুলিশের মামলা বিসিএস ক্যাডার, প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী; এক নজরে সালাহউদ্দিন আহমদ ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে: দাবি ট্রাম্পের সংসার সুখের করতে স্বামীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক আত্মহত্যা জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় বসছে জাতীয় কমিটি শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী পেশা বদলের অনুমতি দিল কুয়েত সরকার অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ধ্বংসের ছায়ার মাঝেই পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী প্রস্তুতি নিচ্ছে গাজাবাসী 

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • / 226

ছবি সংগৃহীত

 

গাজায় টানা ১৫ মাসের ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। প্রাণঘাতী আগ্রাসনের শিকার ফিলিস্তিনিরা এখনো বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্দশার মধ্যেই পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে গাজার বাসিন্দারা। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোকে ব্যানার ও পতাকা দিয়ে সাজিয়ে তুলছেন তারা, যেন বিপর্যয়ের মাঝেও রমজানের আলো ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে রমজান উপলক্ষে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এক সরকারি মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গত বছর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ৫৫ বছরের নিচে পুরুষ এবং ৫০ বছরের নিচে নারীদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। এবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজা সংকটে আশার বার্তা দিলেন ট্রাম্প, আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

তবে সব বাধা পেরিয়ে রমজানের পবিত্রতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর গাজাবাসী। রঙিন আলোয় সাজানো হচ্ছে ভবন, রাস্তায় ঝুলছে রমজান করিম লেখা ব্যানার। ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রস্তুতিও চলছে। অনেকে কদাইফ তৈরিতে ব্যস্ত, কেউবা আলোকসজ্জা কিনতে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। যদিও যুদ্ধের ক্ষত তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে, তবু বিশ্বাস ও ধৈর্য দিয়ে তারা আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করছেন।

এদিকে, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ইসরায়েলের হামলায় অনেকেই বাড়িঘর ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাজারে আগের মতো ক্রেতাদের ভিড় নেই, ব্যবসাও স্থবির। এক লণ্ঠন বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, “আগে রমজানে বেচাকেনা জমে উঠত, এখন অবস্থা করুণ। মানুষের জীবন তছনছ হয়ে গেছে।”

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮,৩৬৫ জন নিহত এবং ১,১১,৭৮০ জন আহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস। মিসরের রাজধানী কায়রোয় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আজ শনিবার প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে যাচ্ছে। গাজার মানুষ এখন অপেক্ষায় শান্তি ফিরবে কি না, রমজানের বরকতে নতুন সূর্যোদয় ঘটবে কি না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধ্বংসের ছায়ার মাঝেই পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী প্রস্তুতি নিচ্ছে গাজাবাসী 

আপডেট সময় ১০:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

 

গাজায় টানা ১৫ মাসের ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। প্রাণঘাতী আগ্রাসনের শিকার ফিলিস্তিনিরা এখনো বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্দশার মধ্যেই পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে গাজার বাসিন্দারা। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোকে ব্যানার ও পতাকা দিয়ে সাজিয়ে তুলছেন তারা, যেন বিপর্যয়ের মাঝেও রমজানের আলো ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে রমজান উপলক্ষে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এক সরকারি মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গত বছর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ৫৫ বছরের নিচে পুরুষ এবং ৫০ বছরের নিচে নারীদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। এবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  গা/জা/য় ভয়াবহ খাদ্য সংকট: দুর্ভিক্ষের মুখে ২১ লাখ মানুষ

তবে সব বাধা পেরিয়ে রমজানের পবিত্রতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর গাজাবাসী। রঙিন আলোয় সাজানো হচ্ছে ভবন, রাস্তায় ঝুলছে রমজান করিম লেখা ব্যানার। ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রস্তুতিও চলছে। অনেকে কদাইফ তৈরিতে ব্যস্ত, কেউবা আলোকসজ্জা কিনতে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। যদিও যুদ্ধের ক্ষত তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে, তবু বিশ্বাস ও ধৈর্য দিয়ে তারা আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করছেন।

এদিকে, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ইসরায়েলের হামলায় অনেকেই বাড়িঘর ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাজারে আগের মতো ক্রেতাদের ভিড় নেই, ব্যবসাও স্থবির। এক লণ্ঠন বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, “আগে রমজানে বেচাকেনা জমে উঠত, এখন অবস্থা করুণ। মানুষের জীবন তছনছ হয়ে গেছে।”

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮,৩৬৫ জন নিহত এবং ১,১১,৭৮০ জন আহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস। মিসরের রাজধানী কায়রোয় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আজ শনিবার প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে যাচ্ছে। গাজার মানুষ এখন অপেক্ষায় শান্তি ফিরবে কি না, রমজানের বরকতে নতুন সূর্যোদয় ঘটবে কি না।