ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষে সাফল্যের নতুন দিগন্ত, কৃষকের মুখে হাসি

খবরের কথা ডেস্ক

ছবি সংগৃহীত

 

শরীয়তপুরের কৃষকরা ধনিয়া চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। মসলা জাতীয় এই ফসলটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার সুনাম বয়ে আনছে। কম খরচে চাষযোগ্য এবং বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রির সুযোগ থাকায় দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলন ভালো হওয়ায় ধনিয়া এখন জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল হয়ে উঠছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ধনিয়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৬ হেক্টর জমি, তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। আগের তুলনায় আবাদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কৃষকরা উল্লেখ করছেন উৎপাদন খরচ কম এবং লাভজনক বাজারদর।

মাঠঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ধনিয়ার সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমি। মৌমাছির গুঞ্জন আর কৃষকদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে ভালো ফলনের বার্তা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধনিয়া চাষে কৃষকেরা বেশ খুশি। সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকার কৃষক সদানন্দ দাঁড়িয়া জানান, গত মৌসুমে ভালো লাভ হওয়ায় এ বছর তিনি চাষের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাজারমূল্য ভালো থাকলে এ বছরও ভালো আয় করতে পারবো। আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করবো।’

এদিকে, কৃষকরা সরকারি সহায়তার দাবি তুলেছেন। বিশেষ করে সার ও মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা পেলে ধনিয়া চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, ‘ধনিয়া এখন শরীয়তপুরের ব্র্যান্ড ফসলের একটি। কৃষকদের চাষে উৎসাহিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, যেন তারা ন্যায্য মূল্য পান।’

শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষ কেবল কৃষকের আয়ের উৎস নয়, এটি জেলার অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। যদি সরকারি সহায়তা আরও জোরদার করা হয়, তবে ধনিয়া হতে পারে এখানকার কৃষকদের জন্য আরও শক্তিশালী অর্থকরী ফসল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
৫০৭ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষে সাফল্যের নতুন দিগন্ত, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৪:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

শরীয়তপুরের কৃষকরা ধনিয়া চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। মসলা জাতীয় এই ফসলটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার সুনাম বয়ে আনছে। কম খরচে চাষযোগ্য এবং বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রির সুযোগ থাকায় দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলন ভালো হওয়ায় ধনিয়া এখন জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল হয়ে উঠছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ধনিয়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৬ হেক্টর জমি, তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। আগের তুলনায় আবাদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কৃষকরা উল্লেখ করছেন উৎপাদন খরচ কম এবং লাভজনক বাজারদর।

মাঠঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ধনিয়ার সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমি। মৌমাছির গুঞ্জন আর কৃষকদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে ভালো ফলনের বার্তা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধনিয়া চাষে কৃষকেরা বেশ খুশি। সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকার কৃষক সদানন্দ দাঁড়িয়া জানান, গত মৌসুমে ভালো লাভ হওয়ায় এ বছর তিনি চাষের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাজারমূল্য ভালো থাকলে এ বছরও ভালো আয় করতে পারবো। আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করবো।’

এদিকে, কৃষকরা সরকারি সহায়তার দাবি তুলেছেন। বিশেষ করে সার ও মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা পেলে ধনিয়া চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, ‘ধনিয়া এখন শরীয়তপুরের ব্র্যান্ড ফসলের একটি। কৃষকদের চাষে উৎসাহিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, যেন তারা ন্যায্য মূল্য পান।’

শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষ কেবল কৃষকের আয়ের উৎস নয়, এটি জেলার অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। যদি সরকারি সহায়তা আরও জোরদার করা হয়, তবে ধনিয়া হতে পারে এখানকার কৃষকদের জন্য আরও শক্তিশালী অর্থকরী ফসল।