ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

 

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন করে ফেলেছে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলতে হলে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। তবে এর আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচের ফলও বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লক্ষ্য ছিল ২৭৩ রান। বাংলাদেশের জন্য রানটি তাড়া করা অসম্ভব ছিল না। শুরুর ১০ ওভারে তানজিদ তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বিনা চাপে ৬৬ রান তুলে নেয় দল। এতে প্রয়োজনীয় রান তোলার হারও কমে প্রায় পাঁচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন  বোলিংপরীক্ষায় আবারও ব্যর্থ সাকিব আল হাসান

এ অবস্থায় উইকেট ধরে রেখে এগোতে পারলেই জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতো বাংলাদেশের। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দল। প্রথম উইকেটে ৪৭ রানের জুটির পর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেননি ব্যাটাররা।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটিটি আসে নবম উইকেটে। তাসকিন আহমেদের সঙ্গে মিলে রিশাদ হোসেন ৩২ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৭৩ রানের লক্ষ্য পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করতে হয় দলকে।

ত্রিদেশীয় এই সিরিজের ফরম্যাট সিঙ্গেল লিগভিত্তিক। অর্থাৎ, প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। এমন ফরম্যাটে প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সে জন্য প্রথম শর্ত হলো, নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচের ফলের ওপরও নির্ভর করবে ফাইনালে ওঠার হিসাব।

সিরিজের সূচি বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সুবিধা তৈরি করেছে। নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সেই ম্যাচের ফল জেনে নিজেদের করণীয় নির্ধারণের সুযোগ পাবেন তাওহীদ হৃদয়রা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলার আগে আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতলে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ তুলনামূলক সহজ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।

অন্যদিকে, আফগানিস্তান জিতলে বাংলাদেশের জন্য হিসাব জটিল হয়ে উঠবে। তখন আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধান বিবেচনায় নিতে হবে। আফগানিস্তান যদি মাত্র এক রানেও জেতে, সে ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে নিজেদের শেষ ম্যাচে অন্তত ৫০ রানে অথবা আট ওভার হাতে রেখে জিততে হবে।

আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধান বাড়লে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় জয়ের ব্যবধানও বেড়ে যাবে। যেমন, আফগানিস্তান যদি জিম্বাবুয়েকে ৫০ রানে হারায়, তাহলে বাংলাদেশের সামনে অন্তত ৭৫ রানে জয়ের লক্ষ্য তৈরি হবে। আর জিম্বাবুয়েকে ছাড়িয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হতে পারে ১৪৯ রানের ব্যবধানে।

তবে শেষ ম্যাচের সমীকরণ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত হিসাব কষার সুযোগ নেই। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ শেষ হলেই বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার হিসাব পরিষ্কার হবে।

আপাতত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের জয়ই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ফল। তাতে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১০:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন করে ফেলেছে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলতে হলে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। তবে এর আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচের ফলও বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লক্ষ্য ছিল ২৭৩ রান। বাংলাদেশের জন্য রানটি তাড়া করা অসম্ভব ছিল না। শুরুর ১০ ওভারে তানজিদ তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বিনা চাপে ৬৬ রান তুলে নেয় দল। এতে প্রয়োজনীয় রান তোলার হারও কমে প্রায় পাঁচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন  জুলাই গণহত্যার বিচার দেশে হবে, আইসিসিতে যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

এ অবস্থায় উইকেট ধরে রেখে এগোতে পারলেই জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতো বাংলাদেশের। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দল। প্রথম উইকেটে ৪৭ রানের জুটির পর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেননি ব্যাটাররা।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটিটি আসে নবম উইকেটে। তাসকিন আহমেদের সঙ্গে মিলে রিশাদ হোসেন ৩২ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৭৩ রানের লক্ষ্য পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করতে হয় দলকে।

ত্রিদেশীয় এই সিরিজের ফরম্যাট সিঙ্গেল লিগভিত্তিক। অর্থাৎ, প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। এমন ফরম্যাটে প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সে জন্য প্রথম শর্ত হলো, নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচের ফলের ওপরও নির্ভর করবে ফাইনালে ওঠার হিসাব।

সিরিজের সূচি বাংলাদেশের জন্য কিছুটা সুবিধা তৈরি করেছে। নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সেই ম্যাচের ফল জেনে নিজেদের করণীয় নির্ধারণের সুযোগ পাবেন তাওহীদ হৃদয়রা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলার আগে আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতলে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ তুলনামূলক সহজ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।

অন্যদিকে, আফগানিস্তান জিতলে বাংলাদেশের জন্য হিসাব জটিল হয়ে উঠবে। তখন আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধান বিবেচনায় নিতে হবে। আফগানিস্তান যদি মাত্র এক রানেও জেতে, সে ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে নিজেদের শেষ ম্যাচে অন্তত ৫০ রানে অথবা আট ওভার হাতে রেখে জিততে হবে।

আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধান বাড়লে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় জয়ের ব্যবধানও বেড়ে যাবে। যেমন, আফগানিস্তান যদি জিম্বাবুয়েকে ৫০ রানে হারায়, তাহলে বাংলাদেশের সামনে অন্তত ৭৫ রানে জয়ের লক্ষ্য তৈরি হবে। আর জিম্বাবুয়েকে ছাড়িয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হতে পারে ১৪৯ রানের ব্যবধানে।

তবে শেষ ম্যাচের সমীকরণ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত হিসাব কষার সুযোগ নেই। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ শেষ হলেই বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার হিসাব পরিষ্কার হবে।

আপাতত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের জয়ই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ফল। তাতে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।