ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার
অর্থনীতি

সুতা আমদানিতে রেকর্ড মাইলফলক, সাত বছরের শীর্ষ রেকর্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 289

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ তুলা উৎপাদন করে না, ফলে পণ্যটি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। তুলা আমদানি করে সুতা তৈরি করা হয়, যা মূলত পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত হয়। তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তুলা আমদানিও বাড়ে। তবে বর্তমানে দেশে সুতা আমদানির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর জন্য উদ্বেগজনক।

বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ১২ লাখ টন সুতা আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। এই সুতার বড় অংশই আসছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে।

আরও পড়ুন  গ্যাসচালিত পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থা: শেখ রবিউল আলম

স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহার করছে। অথচ দুই বছর আগে গ্যাসের দাম ১৫০-১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

এতে সুতার উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো দেশীয় সুতা ব্যবহার করলে যে নগদ সহায়তা পেত, তাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারতীয় সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না দেশীয় সুতা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর তথ্যানুযায়ী, দেশে ৫১৯টি স্পিনিং মিল রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বন্ধ। এই মিলগুলো নিট কাপড়ের ৮৫-৯০ শতাংশ এবং ওভেন কাপড়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে।

তবে গত বছর পোশাক রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় তুলা ও সুতার আমদানি বাড়ে। ২০২৩ সালে প্রায় ১৮ লাখ ৮৯ হাজার টন তুলা আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। একই বছর ১২ লাখ টন সুতা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নগদ সহায়তা পুনর্বহাল ও উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিলে দেশীয় শিল্প ভারতীয় সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা রাখছেন সংশ্লিষ্টরা ।

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি

সুতা আমদানিতে রেকর্ড মাইলফলক, সাত বছরের শীর্ষ রেকর্ড

আপডেট সময় ০৭:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫

 

বাংলাদেশ তুলা উৎপাদন করে না, ফলে পণ্যটি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। তুলা আমদানি করে সুতা তৈরি করা হয়, যা মূলত পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত হয়। তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তুলা আমদানিও বাড়ে। তবে বর্তমানে দেশে সুতা আমদানির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর জন্য উদ্বেগজনক।

বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ১২ লাখ টন সুতা আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। এই সুতার বড় অংশই আসছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে।

আরও পড়ুন  আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ থেকে কার্যকর নতুন দর

স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহার করছে। অথচ দুই বছর আগে গ্যাসের দাম ১৫০-১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

এতে সুতার উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো দেশীয় সুতা ব্যবহার করলে যে নগদ সহায়তা পেত, তাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারতীয় সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না দেশীয় সুতা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর তথ্যানুযায়ী, দেশে ৫১৯টি স্পিনিং মিল রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বন্ধ। এই মিলগুলো নিট কাপড়ের ৮৫-৯০ শতাংশ এবং ওভেন কাপড়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে।

তবে গত বছর পোশাক রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় তুলা ও সুতার আমদানি বাড়ে। ২০২৩ সালে প্রায় ১৮ লাখ ৮৯ হাজার টন তুলা আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। একই বছর ১২ লাখ টন সুতা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নগদ সহায়তা পুনর্বহাল ও উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিলে দেশীয় শিল্প ভারতীয় সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা রাখছেন সংশ্লিষ্টরা ।